গতকাল ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে সেকশন ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে এর আগের রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে চ্যানেল পরিষ্কার, নাব্যতা পুনরুদ্ধার ও দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান ও ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার প্রাচীন জলাধারগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ দূরানী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায়। দীর্ঘদিন দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে চ্যানেলের বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষায় ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে থাকে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অংশ দখল ও বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলের সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।
এখন চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে চ্যানেল ও সংলগ্ন এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হলে চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে জলাধারটির পরিবেশগত ভারসাম্য ফেরানোর পাশাপাশি এলাকাটিকে জনসাধারণের চলাচল ও অবসর সময় কাটানোর উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা জরুরি। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’
ঢাকা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চ্যানেলটি যাতে আবার দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সেজন্য নজরদারি জোরদার করা হবে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।










