করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার কোরবানির পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ময়মনসিংহের গরুর খামারিরা। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে আশঙ্কা ততই বাড়ছে। লাভের আশা তো দূরে থাক, এবার বাজারে কোরবানির পশু বিক্রি করে পুঁজি তুলতে পারবেন কিনা, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার জেলা পর্যায়ে ‘কোরবানি হাট এমওয়াইএম’
নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও কোরবানির পশু বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। করোনার বিস্তার রোধে ডিজিটাল প্লাটফর্মে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পশু কেনাবেচার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম জানান, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে। এতে উপজেলাভিত্তিক খামারির মোবাইল নম্বর, ঠিকানা ও কোরবানির পশুর ছবিসহ বিবরণ দেয়া থাকবে। সম্ভাব্য গরু, ছাগল ও মহিষের দামও উল্লেখ থাকবে। বিক্রেতার সক্ষমতা অনুযায়ী গরু ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দেয়ারও সুযোগ রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, কোরবানির চাহিদা মেটাতে দেশে বড় ভূমিকা রাখছেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের খামারি ও কৃষকরা। এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার সাড়ে ১০ হাজার খামারি উৎপাদন করছেন ৪৬ হাজার ৫০০টি গরু। কৃষক পর্যায়ে আরো প্রায় ৮০ হাজার কোরবানির পশুসহ জেলায় মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোরবানির পশু রয়েছে। এবার জেলায় কোরবানির চাহিদা ১ লাখ ১০ হাজার।
এ অঞ্চলে গরুর খামারের পাশাপাশি আড়াই হাজার মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কৃষকের গোয়ালে প্রায় ২০ হাজার গরু-মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা হয়েছে।
করোনার কারণে এবার অনেক পশু অবিক্রীত থাকতে পারে বলে খামারি ও কৃষকরা আশঙ্কা করছেন। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের।
ত্রিশাল পৌর শহরের চরপাড়া গ্রামের তাহা এগ্রোর মেহেদী কাওসার ফুয়াদ জানান, এবার ৪৮টি গরু লালনপালন করে মোটাতাজা করেছেন। খড়সহ গোখাদ্যের দাম বেড়েছে। করোনার পরিস্থিতিতে বাজারে গরুগুলো তুলতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের সরাতিয়া গ্রামের খামারি মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমি ধারদেনা করে ৩০টি ষাঁড় ও ছয়টি বলদ লালনপালন করেছি। করোনার কারণে বিক্রি না হলে ধারদেনা নিয়ে পথে বসতে হবে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার কোরবানির ঈদে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভরসাস্থল হতে যাচ্ছে ভার্চুয়াল পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের এ প্লাটফর্ম ব্যবহার করে পশু কেনাবেচার আহ্বান জানিয়েছেন।









