তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে নতুন উদ্যোক্তারা আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই ‘প্রভিশনাল লাইসেন্স বা সাময়িক অনুমোদন’ পাবেন, ফলে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আর ব্যবসা শুরুতে বিলম্ব হবে না।

গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং ও গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ এক্সিবিশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ও ইনফোরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে প্রদর্শনীটি আগামী ২ মে পর্যন্ত চলবে। এতে টেক্সটাইল, নিটওয়্যার ও গার্মেন্টস খাতের যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন এক্সিবিশনের কনভেনর ফজলে শামীম এহসান। এছাড়া বক্তব্য দেন ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর স্পেন্সার লিন এবং অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন বিকেএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) মোর্শেদ সরোয়ার সোহেল।

শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প—বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদহার এ খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে ১৩-১৪ শতাংশের মতো উচ্চ সুদহার শ্রমঘন শিল্প, বিশেষ করে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের জন্য বড় বাধা। এ ধরনের ডাবল ডিজিট সুদহার দিয়ে কম মুনাফার শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন। সরকার ধীরে ধীরে সুদহার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে, যাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ে এবং বিদ্যমান শিল্পগুলো টিকে থাকতে পারে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রভিশনাল লাইসেন্সের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীরা কারখানা স্থাপন, অবকাঠামো নির্মাণ ও উৎপাদন প্রস্তুতির কাজ শুরু করতে পারবেন। উদ্যোক্তারা যেন আবেদন করেই কাজ শুরু করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘‌আজকের এ মেলায় প্রায় ১ হাজার ৮০০টি স্টলে ৯০০টির মতো প্রতিষ্ঠান তাদের সামগ্রী প্রদর্শন করছে। এখানে টেক্সটাইল জগতের বিশ্বের সর্বশেষ প্রযুক্তি এবং এআই সমৃদ্ধ লেটেস্ট টেকনোলজি একই ছাতার নিচে আনা হয়েছে। আমাদের উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ, যাতে তারা দেখতে পারেন লেটেস্ট টেকনোলজি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এবং আমরা সেগুলোকে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কতটুকু ব্যবহার করতে পারছি। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের পোশাক শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করবে।’

আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌সামনে আমাদের জাতীয় বাজেট হতে যাচ্ছে। আমাদের সেক্টরের সমস্যাগুলো সম্পর্কে মন্ত্রী সবই জানেন। আমি অনুরোধ করব বাজেটে যেন আমাদের এ সমস্যাগুলোর যথাযথ সমাধান থাকে।’

এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ২৮টি দেশের ৯০০ প্রদর্শক অংশগ্রহণ করছেন। মোট ১ হাজার ২০০টি বুথ নিয়ে প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এ আয়োজন বিস্তৃত। কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বাধুনিক পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।