পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান ঢাকা থেকে কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছেছে।
গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়ি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে রাশিয়া থেকে দ্বিতীয় চালানের ইউরেনিয়াম বিশেষ বিমানে ঢাকায় পৌঁছে। প্রথম চালানের মতোই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান সড়কপথে রূপপুরে নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো পাঁচটি চালান দেশে আসবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো আসার সময় মহাসড়কে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাবলয় ছিল। নিরাপত্তার জন্য ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান রাশিয়া থেকে বিমানযোগে ঢাকায় পৌঁছানোর পর ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে সড়কপথে রূপপুরে আনা হয়। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিস্বরূপ বৃহস্পতিবার আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কাছে রাশিয়া জ্বালানি সনদ হস্তান্তর করেছে। ইউরেনিয়াম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের মার্চে প্রথম ইউনিটে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরের বছর ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে দ্বিতীয় ইউনিট চালু হতে পারে বলে আশা করছেন তারা। দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
এর আগে বিশ্বের ৩২টি দেশ পরমাণু শক্তি ব্যবহার করে আসছে। পরমাণু শক্তি ব্যবহারকারী ৩৩তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তাদের তালিকায় স্থান পেল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম তিন বছর একবার পারমাণবিক জ্বালানি পাওয়ার প্লান্টের চুল্লিতে লোড করা হলে এক বছরের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এরপর দেড় বছর পরপর চুল্লিতে পুনরায় জ্বালানি লোড করতে হবে। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রথম ইউনিট (১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট) চালু করার জন্য ৭৫ টন ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হবে।










