সিলেট সিটি করপোরেশন
নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। বুধবার (২১ জুন) সকাল ৮টা থেকে ১৫৫
ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শুরুর দিকে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম
থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে। এরই মধ্যে বৃষ্টিতে
কিছুটা বিঘ্ন হলেও বৃষ্টি থামার পর আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
এখনো কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল করেছে বলে মন্তব্য
করেছেন রাসিক নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বুধবার
(২১ জুন) সকালে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সকাল সোয়া ৯টায় নগরীর স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুল কেন্দ্রে দুই মেয়েকে সঙ্গে
নিয়ে গিয়ে ভোট দেন লিটন। বেরিয়ে যাবার সময় তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এ সময়
তিনি বলেন, নির্বাচনে বিএনপি
প্রার্থী দিলে তারা তাদের অবস্থান বুঝতে পারত। জনপ্রিয়তা থাকলে তাদের প্রার্থী
নির্বাচিতও হতে পারতেন। সুতরাং, প্রার্থী না দেয়া তাদের ভুল সিদ্ধান্ত।
দলীয় প্রার্থী না থাকলেও বিএনপির ভোটাররা কেন্দ্রে আসবেন উল্লেখ করে লিটন বলেন, বিএনপির ভোট মেয়র পদে আসলে কে পাবে সেটা বলা মুশকিল।
তবে রাজশাহী শহরের উন্নয়নের স্বার্থে তাদেরও কিছু ভোট আমি পাবো। এসময় নির্বাচনে আরো
অন্যান্য দল অংশ নিলে তিনি খুশি হতেন বলে জানান লিটন।
দিনের শুরুতে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। কোথাও কোথাও ইভিএমএ ধীরগতির খবরও
পাওয়া গেছে। এই প্রসঙ্গে লিটন বলেন,
একেক এলাকার মানুষের অভ্যাস একেক রকম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে
এখানেও ভোটার বাড়বে। ভোটার উপস্থিতি ৬০ শতাংশের আশপাশে থাকবে বলেও আশাবাদী লিটন।
ইভিএমে ভোটগ্রহণে ধীরগতির বিষয়ে তিনি বলেন, দুয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএমের কারণে ধীরগতিতে ভোটগ্রহণের
খবর তিনিও পেয়েছেন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন বিষয়টি দেখবে এবং সমস্যার সমাধান করবে।
ইভিএমে ভোটগ্রহণ নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম
স্বপনের। ভোট দিতে এসে একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।
সকাল ১০টার দিকে নগরীর আটকোষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন স্বপন।
পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ঘণ্টায় ১৩ থেকে ১৪টির বেশি ভোট নিতে পারছে না ইভিএম। যতগুলো ভোটকেন্দ্র
ঘুরেছেন সবগুলোতেই একই সমস্যা পেয়েছেন।
লাঙল প্রতীকের এই প্রার্থী
বলেন, তিনি আগেই ইভিএমের এই সমস্যার কথা বলেছিলেন। ভোটার
উপস্থিতি সন্তোষজনক আছে, তবে ইভিএমের কারণে ভোট গ্রহণ চলছে
ধীরগতিতে। তাই এখন মনের বিরুদ্ধে হলেও তিনি নির্বাচনে থাকবেন। ফলাফল মেনে নেয়া
ছাড়া কোনো উপায় নেই তার।
নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী আছেন আরো দুজন। এরা হলেন— হাতপাখা
প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর রশিদ আলম এবং গোলাপ ফুল প্রতীকে
জাকের পার্টির প্রার্থী লতিফ আনোয়ার। গত ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থীর
ওপর হামলা প্রেক্ষিতে রাসিক নির্বাচন বর্জন করেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী। তবে
ইভিএমে রয়ে গেছে হাতপাখা প্রতীক। ইভিএমে ভোট সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ এনে সরে যেতে চেয়েছিলেন লাঙল প্রতীকের প্রার্থীও। কিন্তু তাতে সায়
দেয়নি জাতীয় পার্টি।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খখলা
বাহিনী। তারা জানিয়েছে, নির্বাচন ঘিরে মোতায়েন রয়েছে প্রায়
সাড়ে ৩ হাজার পুলিশ সদস্য। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র্যাব
সদস্য রয়েছেন ৩০০ জন। ১২ প্লাটুন বিজিবিও টহল দিচ্ছে নগরীতে। ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ও ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভোটের মাঠে রয়েছেন। বিশৃঙ্খলা হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিচারের আওতায় আনবেন তারা।
নির্বাচন দফরের তথ্য
অনুযায়ী, ১৫৫ ভোট কেন্দ্রের ১ হাজার ১৫৩টি কক্ষে ইভিএমের
মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটে ৩ হাজার ৬১৪ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিটি কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। ঢাকা থেকে ক্যামেরায় দেখে নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে
নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১১২ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত নারী
আসনের বিপরীতে ৪৬ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭১
হাজার ১৮৫ জন, আর নারী ১ লাখ ৮০ হাজার
৯৭২ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন।









