পর্তুগালে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বাংলাদেশী যুবককে মিশরে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বগুড়া, হবিগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের ওই চার যুবক বর্তমানে মিশরের একটি কারাগারে আটক অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত ৬ এপ্রিলের পর থেকে তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে দুশ্চিন্তায় থাকা পরিবারগুলো প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন বগুড়ার শেরপুর থানার কামরুল হাসান সাগর, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ থানার কুতুব উদ্দিন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার মিরাজ আহমেদ এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার সামিউল আলম হিমেল। গত বছরের ৭ নভেম্বর এ চারজন একই দালালের মাধ্যমে দেশ ছেড়েছিলেন।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, দালাল রাকিব তাদের স্বজনদের পর্তুগালে পাঠানোর লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত গন্তব্যে না নিয়ে তাদের মিশরে নেয়া হয়। মিশরে পৌঁছানোর পর সেখানকার দালালচক্র তাদের একটি মিথ্যা প্রতারণা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। সেই থেকেই ভুক্তভোগী চার বাংলাদেশী কারাগারে বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
কামরুল হাসান সাগরের ভাই মো. রাসেল বণিক বার্তাকে জানান, নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় একসঙ্গে কাজ করতেন দালাল রাকিবসহ ভুক্তভোগীরা। পর্তুগালে পাঠানোর কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ লাখ করে টাকা নেন। প্রথমে ওমরা ভিসায় সৌদি আরবে নেয়া হয়। সেখান থেকে দুদিন পর মিশরে নেয়া হয়। কিন্তু মিশরে থেকে পর্তুগালে পাঠানোর কথা বলে ৩ মাসের বেশি পার করে দেয় দালাল। এদিকে ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মিশরে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশে দেয়া হয়। ভাইকে দেশে ফেরানোর জন্য সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না।
কুতুব উদ্দিনের ভাই মো. সালাউদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ভাইয়ের কোনো খোঁজ নেই, পরিবার রাতের পর রাত ঘুমাতে পারছে না। মিরাজ আহমেদের ভাই মো. আকাশ আলী এবং হিমেলের বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাকও একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এপ্রিলের ৬ তারিখের পর থেকে ফোনে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, বেঁচে আছেন কিনা সেটুকুও জানা যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী চার পরিবার আলাদাভাবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর আবেদনপত্র দাখিল করেন। আবেদনে তারা মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের বর্তমান অবস্থা তদন্ত করে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি দিয়ে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি অভিযুক্ত দালাল মো. রাকিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তারা।










