চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর গবেষণা খাতে অপরিবর্তিত ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে তার নিজ কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ৩২তম সিনেট সভায় এ বাজেট ঘোষণা করা হয়। এসময় বাজেট পেশ করেন সিনেটের সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান। বাজেট আলোচনা শেষে সিনেট সদস্যরা তা অনুমোদন করেন। 

বাজেট উত্থাপনকালে তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছ থেকে ৫১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছিল। এ চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ৩৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ঘাটতি বাজেট ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বাজেটে  শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২২২ কোটি ২০ লাখ টাকা। যা মোট বাজেটের ৬৪.১৬ শতাংশ। তবে গবেষণা খাতে গত বছরের মাত্র ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ অপরিবর্তিত রয়েছে। যা মোট বাজেটের মাত্র ১.২১ শতাংশ।

এদিকে অনুমোদিত বাজেটে শিক্ষার্থী প্রতি বাৎসরিক গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩৭ টাকা। এর বিপরীতে আয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৩৫ টাকা। বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের মধ্যে চিকিৎসায় ৫৬ লাখ, পরিবহন ২ কোটি ১৫ লাখ, বইপত্র, সংবাদপত্র ও সাময়িকী খাতে ৮৮ লাখ টাকা ও প্রকাশনা খাতে ১৭ লাখ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে।

সিনেট অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, আগামী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দুটি বিষয়কে গুরুত্বারোপ করে সকল পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তা হচ্ছে গবেষণা ও উন্নয়ন। আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে চবির অবস্থানকে একটি সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য গবেষণা মান ও পরিমাণ বাড়ানোর জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজেট উত্থাপন শেষে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন সিনেট সদস্যরা। এসময় বক্তব্য রাখেন সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. দানেশ মিয়া, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান, ছাত্র-শিক্ষক উপদেষ্টা অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. কাজী এসএম খসরুল আলম কুদ্দুসী, সিনেট সদস্য ড. মঞ্জুরুল আমিন চৌধুরী, সিনেট সদস্য অধ্যাপক এমএ গফুর, সিনেট সদস্য এস এম ফজলুল হক।

এছাড়া করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার ভার্চুয়ালি আলোচনায় অংশ নেন সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এখলাছুর রহমান, অধ্যাপক বেনু কুমার দে, সিনেট সদস্য অধ্যাপক জমির উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আফতাব হোসেন প্রামাণিক, চবি জীববিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।