পাবনায় গাছে গাছে এসেছে আমের মুকুল। এরই মধ্যে কিছু গাছে গুঁটি ধরতে শুরু করেছে। পরিচর্যা ও মধু পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষায় করা হচ্ছে স্প্রে। এবার আমের ফলনও ভালো হবে বলে আশা চাষীদের। চলতি মৌসুমে ৪৫ হাজার ২৩৭ টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত মৌসুমে ২ হাজার ৬৬৮ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৩০ হেক্টর। দেশীয় জাত ছাড়াও বিভিন্ন প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত আমের আবাদও বেড়েছে পাবনায়। আধুনিক  প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আমের নতুন নতুন জাতের আবাদ বৃদ্ধি ও বাগান সৃজন করা হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাত, ল্যাংড়াসহ বিভিন্ন জাতের আম আবাদ হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে চাষীদের বাগানে পৌঁছে দেয়া হয়েছে আম্রপালি, বারি-৪, বারি-১১সহ বিভিন্ন জাতের আম গাছ। এর মধ্যে বছরব্যাপী বা বারোমাসি আমের আবাদও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বছরে তিনবার এ আম পাকে।

আটঘড়িয়া উপজেলার আমচাষী বাদশা মিয়া জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গাছে মুকুল বেশি এসেছে। চলতি শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে এবং আগাম কুয়াশা দেখা দেয়ায় মুকুলের আধিক্য বেড়েছে। এতে ফলনও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. নূরে আলম বলেন, ‘গত মৌসুমের তুলনায় এবার আমের আবাদ বেড়েছে। এ বিষয়ে চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ৬২ হেক্টর জমিতে আমের বাগান বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে আমের উৎপাদনও বাড়বে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায়ও আম সরবরাহ করা যাবে।’