মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় আমানত শাহ ফেরিডুবির ঘটনায় আজ শনিবার চতুর্থ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘রুস্তম’ অভিযানে অংশ নিলেও ফেরিটিকে উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, সকাল ৮টায় শুরু হওয়া অভিযানে দুপুর দুইটা পর্যন্ত একটি কাভার্ডভ্যান ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে রুস্তম। অপর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাকী থাকা অপর একটি কাভার্ডভ্যান তোলার চেষ্টা করছিল।
উদ্ধার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সকাল ১০টায় উদ্ধার কাজ শুরু করে রুস্তম। আগে থেকে শনাক্ত হওয়া কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকগুলোকে নদীর কিনারা থেকে পাড়ে তুলে দিচ্ছে জাহাজটি।
এর আগে, গতকাল শুক্রবার তিনটি কাভার্ডভ্যান ও একটি ট্রাক; গত বৃহস্পতিবার দু’টি কাভার্ডভ্যান; বুধবার চারটি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেল এবং একটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করে। সব মিলিয়ে চারদিনে পাঁচটি ট্রাক, সাতটি কাভার্ডভ্যান ও তিনটি মোটর সাইকেল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া যানবাহনগুলো মালিকদের কাছে হস্তান্তর শুরু হয়েছে। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত যান মালিকরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে ঘাট এলাকায় মানবন্ধনও করেন।
উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরি পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ১৯টি ফেরির মধ্যে ৪টি ফেরি মেরামতে রয়েছে। ফেরি কম থাকায় পাটুরিয়াঘাট এলাকায় ব্যাপক যানজট দেখা গেছে। যানবাহনে সারি দুই থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি পার করা হচ্ছে।
এর আগে গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটে পণ্যবোঝাই ১৪টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এবং ৭টি মোটরসাইকেল নিয়ে রো-রো ফেরি আমানত শাহের তলা ফেটে নদীতে হেলে পড়ে ডুবে যায়। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়ে’র মাধ্যমে ফেরিটিকে উদ্ধারের সিদ্ধান্ত হয়। তবে, স্রোতের কারণে প্রত্যয় না আসতে পারায় রুস্তমকে আনা হয়। রুস্তম ও হামজার সমন্বয়ে আমানম শাহ ফেরি উদ্ধার করা হবে বলে জানান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক।









