বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে তৃতীয় দফার রাজনৈতিক পরামর্শ (পলিটিক্যাল কনসালটেশনস) বৈঠকে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ আরো সম্প্রসারণে ইতালির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত অভিবাসন ও মোবিলিটি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কার্যকর বাস্তবায়ন, সম্ভাব্য কর্মীদের ইতালীয় ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে সহযোগিতা এবং ইতালিতে কর্মী পাঠানোর পথ আরো সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বাংলাদেশ-ইতালি রাজনৈতিক পরামর্শ বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। অন্যদিকে ইতালির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত রিকার্দো গুয়ারিগ্লিয়া। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে ইতালিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী নাগরিককে আশ্রয় দেয়ার জন্য ইতালিকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’কে কার্যকর শ্রমবাজার সহযোগিতায় রূপ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। অনিয়মিত অভিবাসন রোধে সরকারের চলমান উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।
এ সময় ২০২২ ও ২০২৩ সালে বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে যাওয়া কয়েকশ বাংলাদেশী কর্মীর বিষয়টি বিশেষভাবে উত্থাপন করে বাংলাদেশ। মূল স্পন্সরদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা নিয়োগকর্তা পরিবর্তন ও বসবাসের অনুমতির মেয়াদ বাড়াতে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন উল্লেখ করে তাদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে ইতালির বিশেষ বিবেচনা কামনা করা হয়।
বৈঠকে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ ও টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতির কথা জানায়।
পাশাপাশি এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেয়ার বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতালির সমর্থনও চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় বাজারে রফতানির সুবিধা ধরে রাখতে বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির (আইপিএ) বিষয়ে ইতালির রাজনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা কামনা করা হয়। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন জিএসপি বিধিমালার আওতায় টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক পণ্যের স্বয়ংক্রিয় সেফগার্ড সীমা দ্রুত পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রেও ইতালির সমর্থন চাওয়া হয়।
বৈঠকে সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময়ের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ইতালির আরো রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা কামনা করে বাংলাদেশ।
বৈঠকে আগামী বছর পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় পরবর্তী রাজনৈতিক পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়।
এদিকে একই দিনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহকারী নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য ডব্লিউএফপির মানবিক সহায়তা, খাদ্য নিরাপত্তা, আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম, সহনশীলতা বৃদ্ধি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং পুষ্টি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।










