দেশে খাদ্যের অভাব নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন কেউ না খেয়ে থাকে না। কোনো ভিক্ষুক দেখা যায় না। কেউ খালি পায়ে ঘোরে না, খালি গায়ে থাকে না।’
গতকাল বিকালে তিনি মানিকগঞ্জ শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য খাতে সাফল্য অর্জন উপলক্ষে মন্ত্রীকে এ সংবর্ধনা দেয় জেলা আওয়ামী লীগ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে কালাজ্বর নির্মূল সম্ভব হয়েছে। ফাইলেরিয়াসিস রোগও বাংলাদেশ থেকে নির্মূল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক (রিজিওনাল ডিরেক্টর) মনোনীত হয়েছেন। এ প্রাপ্তি দেশের জন্য গৌরবময় অর্জন।’
গত পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বিপুল উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোয় ৪০ হাজার শয্যা ছিল। তা বেড়ে এখন ৭০ হাজার হয়েছে। দেশে ১০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। ক্যান্সার ও কিডনি চিকিৎসার জন্য আটটি বিভাগে হাসপাতালের নির্মাণকাজ চলমান। সারা দেশে মাত্র ৩০০টি আইসিইউ ছিল, এখন ১ হাজার ৫০০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে কোনো আইসিইউ ছিল না, ডায়ালাইসিস ছিল না। বর্তমানে প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যার আইসিইউ ও ১০ শয্যার ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ছিল তিন হাজার। এখন তা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০০ করা হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষকে কভিডের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যু কম হয়েছে। দেশের ৯০ ভাগ মানুষকে কভিডের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। অথচ আশপাশে কোনো দেশ ভ্যাকসিন দিতে পারেনি।’
বিএনপির শাসনামলের সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনা করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ৫ ভাগে নেমেছে। বিএনপির আমলে তা ছিল ৪০ ভাগ। বিএনপির সময় মানুষের মাথাপিছু গড় আয় ছিল ৬০০ ডলার। এখন তা পাঁচ গুণ বেড়েছে। শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করেছিল। আজ বিএনপি পোশাক শিল্পকে অস্থিরতায় ফেলে দিয়েছে।’
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি আবারো অবরোধ করছে। জ্বালাও-পোড়াও করছে। বাস, গাড়ি পোড়াচ্ছে। পুলিশ হত্যা করছে, মানুষ হত্যা করছে। হত্যা করে কখনো বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়। নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসতে হবে। যদিও বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। বিএনপি ক্ষমতার সময় দুর্নীতিতে পাঁচবার সেরা হয়েছিল।’
বিএনপি নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানিকগঞ্জে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না। মানিকগঞ্জে বাস পোড়ানোর চেষ্টা করবেন না। মানিকগঞ্জের মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন না। তাহলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, সহসভাপতি আবদুল মজিদ, মো. রমজান আলী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাফিল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকার এবং মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আরশেদ আলী বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম।










