গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী, মুকসুদপুর ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় আখের বাম্পার ফলন এবং বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
অল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় আখচাষীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।
আবার একই জমিতে আখের পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি ও ফসল ফলানোর সুযোগ থাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আখের চাষ।
আখচাষীদের কেউ কেউ ক্ষেত থেকে আখ তুলে পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন কিংবা নিজেরাই খুচরা বিক্রি করছেন।
অন্যসব ফসলের তুলনায় আখ চাষে খরচ কম, বৈরী আবহাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত কম হয় এবং ফসলের কোনো ক্ষতি হয় না বললেই চলে।
এ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি আখ চাষের অনুকূল হওয়ায় অনেক কৃষকই এখন আখ চাষে ঝুঁকছেন, দেখছেন লাভের মুখ।
এবার বন্যার পানি না আসায় উৎপাদিত আখের গুণগত মানও অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় মোট ৩৫২ হেক্টর আখের আবাদ হয়েছে।
যার মধ্যে সদরে ৫২ হেক্টর, কাশিয়ানীতে ২৬৫, মুকসুদপুরে ১৫, টুঙ্গিপাড়ায় ২০ হেক্টর আখের চাষ করা হয়েছে।
এ বছর আখের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৪৭ টন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলায় ঈশ্বরদী-১৬, ঈশ্বরদী-২০, গ্যান্ডারি, মিছরি দানা, রঙ বিলাস, হুলা খাইল ও বোম্বাইসহ বিভিন্ন জাতের আখের চাষ হয়েছে এ জেলায়।
২০১৯-২০ অর্থবছরে আগাম বন্যায় আখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে চাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহ করায় আখ চাষের পরিমাণ বেড়েছে।
সদর উপজেলার রঘনাথপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত সিংগারকুল গ্রামের আখচাষী মতিন খাঁ বলেন, গত বছর বন্যায় পুরো আখের ক্ষেত পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
গতবার লোকসান হলেও এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে আমার।
এবার চার বিঘা জমিতে সার, বীজ, কীটনাশক, কুশি ভাঙা, পাতা ছাড়ানো এবং অন্যান্য পরিচর্যা বাবদ ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর একই জমি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আয় হবে।
এরই মধ্যে বেপারি আসা শুরু হয়েছে এবং ১ লাখ টাকা দাম বলেছে।
প্রায় ১০ বছর ধরে আখ চাষ করে যাচ্ছেন মুনতাজ আলী।
তিনি বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার আখের ফলন ভালো।
এ বছর তিন বিঘা জমিতে আখের চাষ করেছি।
করোনাকালীন লকডাউনে সবকিছু লোকসানের দিকে গেলেও আখ সহজে পচে বা নষ্ট হয় না, তাই এবার আখ বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে পাব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, আখের চারা জমিতে লাগানোর আগে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করলে বিভিন্ন প্রকার রোগবালাই কম হয় এবং ওই জমিতে বোরন প্রয়োগ করলে ফলন বাম্পার হবে।









