শুধু কাগজের টিকিটের বিকল্প হিসেবে নয়, গণপরিবহন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও তথ্যনির্ভর করতে ডিজিটাল টিকেটিং চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, ডিজিটাল টিকেটিংয়ের মাধ্যমে ভাড়া আদায় ও সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রী চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে রুট পরিকল্পনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা উন্নত করা সম্ভব। এজন্য শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না। বিভিন্ন পরিবহন ও পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়, নিরাপদ লেনদেন, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং ডিজিটাল সেবায় অভ্যস্ত নন এমন যাত্রীদের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

রাজধানীতে গতকাল বেঞ্চমার্ক ডায়ালগ আয়োজিত ‘ডিজিটাল টিকেটিং টু ট্রান্সফর্ম লাইভস-পাওয়ার্ড বাই সহজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেঞ্চমার্ক ডায়ালগের চেয়ারম্যান আশরাফ কায়সার। স্বাগত বক্তব্য দেন সহজ ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কর্নেল (অব.) মো. আমিনুল হক। আলোচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবা খাত, যাত্রী কল্যাণ সংগঠন এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শ্যামলী পরিবহনের পরিচালক রজত ঘোষ বলেন, ‘পরিবহন খাত দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা এলোমেলোভাবে পরিচালিত হয়েছে। টিকেটিং ব্যবস্থা শতভাগ ডিজিটাল করা গেলে এ খাতে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব। যত্রতত্র কাউন্টার না রেখে টার্মিনালভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে এ প্রক্রিয়া সহজ হবে।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উপমহাব্যবস্থাপক শুকদেব ঢালী বলেন, ‘বিআরটিসির টিকেটিং ব্যবস্থা ডিজিটাল করার কাজ চলছে। পিংক বাসে পুরোপুরি অনলাইন টিকেটিং চালু হয়েছে। এতে যাত্রী নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করলে তা সরকারি কোষাগারে যথাযথভাবে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা তৈরি হয়।’

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, তা বিশ্লেষণ করে কাজে লাগাতে হবে। ডিজিটাল টিকেটিংয়ের তথ্য থেকে কোন রুটে কখন যাত্রীর চাপ বেশি, কোথায় অতিরিক্ত বাস প্রয়োজন এবং কোথায় সেবার ঘাটতি রয়েছে—এসব জানা সম্ভব। সরকার এসব তথ্য পরিবহন পরিকল্পনায় ব্যবহার করতে পারে।’

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘পরিবহন খাতকে সংগঠিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। তবে সেবাটি সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।’

বক্তারা বলেন, ডিজিটাল টিকেটিং সফল করতে সরকার, পরিবহন মালিক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সেবাদাতাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠলে যাত্রী চলাচলের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতে রুট নির্ধারণ, বাসের সংখ্যা ও সেবার মানোন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব।