দেশে বিভিন্ন দিবস বা দৈনন্দিন ফুলের চাহিদার বড় একটি অংশ আসে যশোরের গদখালী থেকে। তবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ফুলের বাজার কিছুটা দখল করে নেয় ভারতীয় গোলাপ। গত সোমবার সকালেও মানভেদে গদখালীর গোলাপ প্রতি পিস বিক্রি হয়েছে ১৮-২৫ টাকা। গত মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে ১০-১২ টাকা। ভারত থেকে আসা ফুলের কারণে সে গোলাপ গতকাল বিক্রি হয়েছে পিসপ্রতি ৮ টাকা।

যশোরের বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ১-১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থলবন্দর দিয়ে ১ হাজার ৫৫ কেজি গোলাপ আমদানি করা হয়েছে। প্রতি কেজি গোলাপের আমদানি মূল্য ছিল ২ ডলার।

গোলাপচাষীদের অভিযোগ, গতকাল সকালে কয়েকজন ব্যক্তি গদখালীর বাজারে ভারতের গোলাপ নিয়ে আসেন। চট্টগ্রামসহ বাইরের বেপারিরা কম দামে ওই গোলাপ কিনে নেন। ফলে গদখালীর গোলাপের দাম নিম্নমুখী হয়। গত দুদিনে তারা ভালো দামে বিক্রি করতে পারেননি।

গত মঙ্গলবার ৮০০টি গোলাপ নিয়ে বাজারে এসেছিলেন ঝিকরগাছার হাড়িয়া গ্রামের চাষী নয়ন হোসেন। তিনি প্রতিটি গোলাপ ১০ টাকা বিক্রি করেছেন। তবে আগে ২৫ টাকা পিস হিসেবেও বিক্রি করেছেন। নয়ন বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসের আগে দাম আরো বেশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারত থেকে ফুল আসায় দরপতন হয়েছে।’

যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, ‘অনেকে সীমান্তের চোরাই পথে ও এলসি খুলে ভারত থেকে গোলাপ এনেছে। এতে হঠাৎ করে গোলাপের দাম পড়ে গেছে। তিনদিন আগেও যেখানে ২৫ টাকা প্রতি পিস গোলাপ বিক্রি হয়েছে, সেখানে মঙ্গলবার থেকে দাম পড়ে গেছে। এতে গোলাপচাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার পরও ভালোবাসা দিবসে অন্তত ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে।’

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অসময়ে বৃষ্টি ও তীব্র শীতে গোলাপ খেতে ছত্রাকজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এতে ডাচ ও চায়না জাতের গোলাপ বাগানে ক্ষতি হয়। পরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া সে রোগ এখন আর নেই। তবে ওই রোগে গোলাপ চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’