গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলার রোগীদের একমাত্র ভরসা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটি। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে হাজির হন এ হাসপাতলে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সিটিস্ক্যান, এমআরআই, এক্স-রে, ইকো-কার্ডিওগ্রাফিসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত শত কোটি টাকার মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের পড়তে হয় নানা ভোগান্তিতে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে রোগীদের যেতে হচ্ছে খুলনা কিংবা ঢাকায়। এতে বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে তাদের।

জানা গেছে, শত কোটি টাকায় কেনা চিকিৎসা সরঞ্জামগুলোর মধ্যে সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে মেশিন ফিল্মের অভাবে গত তিন মাস ধরে পড়ে আছে। ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে এমআরআই মেশিন কেনা হয় ২০১২ সালে। তবে কেনার পর থেকে মেশিনটি অচল। দশ বছরেও দেখেনি আলোর মুখ। একই অবস্থা ইকো মেশিনটিরও। কেনার পর থেকে একদিনও ব্যবহার করা হয়নি।

অভিযোগ আছে, রোগীদের এ দুর্ভোগকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন হাসপাতালের এক শ্রেণির অসাধু চিকিৎসক-কর্মচারী। তারা রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকে পাঠিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। তাদের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপদে গরিব, অসহায় ও দরিদ্র জনগণ।

এছাড়া হাসপাতালের ইকো-কার্ডিওগ্রাফি, ইটিটি মেশিন, আলট্রাসনোগ্রামসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষার অন্যান্য বেশ কয়েকটি মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। মাঝে মাঝে টেন্ডার আহ্বান করে মেরামত করলেও তা অল্প দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। অথচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের রোগ নির্ণয়ে এসব মেশিন খুবই জরুরি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক বলেন, সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম না থাকায় চালু করা যাচ্ছে  না। ফিল্ম কেনার জন্য ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়েছে। আসলেই মেশিন চালু করা সম্ভব হবে। এমআরআই  মেশিন কেনার পর থেকেই নষ্ট এটা আর চালু করা সম্ভব নয়। টেন্ডার আহ্বান করে নতুন করে ক্রয় করতে হবে।