ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বহুল আলোচিত ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত করতে জাতীয় সংসদে বিল আনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বিলটি সংসদে তোলেন। বিলটি পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত হবে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে ধারাটি ছিল না। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন করে সংসদ অনুমোদন করেছিল। সেখানে এ ধারা যুক্ত করা হয়।

একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুরনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের ফেরার সুযোগ নতুন আইনে রেখেছিল বর্তমান সরকার। এজন্য কিছুদিন আগে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংসদের পাস করার সময় ১৮(ক) ধারা নামে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। তখন এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

১৮(ক) ধারায় বলা হয়, কোনো ব্যাংক রেজল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা শেয়ারধারক ছিলেন, তারা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে।

এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর সরকার ধারাটি বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী এ সংশোধনী আনতে বিল আনা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ওই ধারার পূর্ণ শর্ত পরিপালন করে এরই মধ্যে কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করা সমীচীন।’

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইনের সংশোধনী আনতে একটি বেসরকারি বিল এনেছিলেন। তিনি বিলটি সংসদে উত্থাপনের অনুমতি চাইলে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য দেন এবং বিলটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তবে নাজিবুর এটি প্রত্যাহার করতে রাজি হননি। তখন বিষয়টি ভোটে দেয়া হয়। ভোটে না জয়ী হওয়ায় নাজিবুরকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়নি।

এদিকে র‍্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল আনা হয়েছে। ২০০৩ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স সংশোধন করে র‍্যাব গঠনের ভিত্তি দেয়া হয়েছিল। এখন সেটা বাতিল করে নতুন আইনের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জন্যও নতুন একটি আইন করা হচ্ছে। সে বিলটিও গতকাল সংসদে তোলা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল’ সংসদে তুলতে গেলে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এসআরবি নামে নতুন এলিট ফোর্স গঠনের আগে তিনি সংসদে বিশদ আলোচনার দাবি জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও একই আহ্বান জানান। এটি নিয়ে বিরোধী নেতার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিতর্ক হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।