গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ ছায়াবীথি বোম্বাইবাড়ী এলাকায় একটি জমিতে
ভবন নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে মাটির মটকায় পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় বের হয়েছে
১৬টি গ্রেনেড। সোমবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ গ্রেনেডের সন্ধান পায় নির্মাণ
শ্রমিকরা। পরে খবর পেয়ে জমির মালিক এসে ৯৯৯-এ ফোন দিলে মেট্রোপলিটন সদর থানার পুলিশসহ
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে
গ্রেনেডগুলোর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিস্ক্রিয় করেন। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা
প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ১৯ সদস্যের এক
টিমের নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সিটিডিসি বোম্ব
ডিসপোজাল ইউনিটের টিম লিডার মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান। মাটির পাতিলের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো
১৬ টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধারের পর বিকাল চারটার দিকে গ্রেনেডগুলো নিস্ক্রিয়করণ শুরু হয়।
এ সময় হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিয়ে নিরাপদ স্থানে গ্রেনেডগুলো বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থলের
কাছে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার বোম্ব ডিসপোজাল
ইউনিটের ১৯ জন সদস্য ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করার পর গ্রেনেডগুলা নিস্ক্রিয়করণের জন্য
বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটায়। পরে ৪টা ৫ মিনিট, ৪টা ১৫মিনিট, ৪টা ১৮
মিনিট, ৪টা ২৩ মিনিট, ৪টা ২৮ মিনিট, ৪টা ৪৫ মিনিট, ৪টা ৫০ মিনিট এবং ৪টা ৫৫ মিনিটে
বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্রেনেডগুলো নিস্ক্রিয় করেন। এসময় ৯ টি বিস্ফোরণের বিকট শব্দে ওই এলাকাসহ
আশপাশের এলাকা প্রকম্পিত হয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশের ভবনের বেশ কিছু জানালার থাই গ্লাস
ফেটে যায়। এর আগে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও
সৌদি প্রবাসী আবুল কাশেম বাড়ি নির্মাণের জন্য গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন জোড়পুকুরপাড়
দক্ষিণ ছায়াবীথি বোম্বাইবাড়ী এলাকায় সাড়ে তিন কাঠা জমি কিনেন। সস্প্রতি ওই বাউন্ডারি
করা জমিতে ৬ তলা বাড়ির জন্য কাজ শুরু করেন। সকালে কয়েকজন শ্রমিক মাটি খোঁড়া শুরু করেন।
এক পর্যায়ে ৪-৫ ফিট মাটি গর্ত করার পর একটি মাটির পাতিল বেড়িয়ে আসে। কোদালের আঘাতে
মাটির পাতিল ফেটে গেলে ভেতর থেকে গ্রেনেড বের হয়ে এলে জমির মালিককে খবর দেন নির্মাণ
শ্রমিকরা।
বাড়ির মালিক আবুল কাশেম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নির্মাণ শ্রমিকরা
কাজ শুরু করে মাটি খনন করার সময় একটি মাটির পাতিলে কোদালের আঘাত লেগে শব্দ হয়। পরে
নির্মাণ শ্রমিকরা ওই মাটির পাতিলের ওপরের মাটি সরিয়ে গ্রেনেডগুলো দেখতে পায়। পরে তারা
আতঙ্কিত হয়ে কাজ বন্ধ করে বিষয়টি জানান। পরে প্রথমেই ৯৯৯-এ ফোন দিই। পরে গাজীপুর সদর
থানায় গিয়ে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল আসে।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর মেট্রো থানার ওসি সৈয়দ রাফিউল করিম
জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় এগুলো পরিত্যক্ত গ্রেনেড। নিরাপত্তার জন্য এলাকা
থেকে লোকজনকে সরিয়ে সীমানা ঘেরা জমির গেটে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরে বস্তুগুলো পরীক্ষার
জন্য ঢাকায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়া হলে তারা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (সিটিডিসি) বোম্ব ডিসপোজাল
ইনিটের টিম লিডার মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান জানান, সকালে খবর পাই মাটি খননের সময় বিস্ফোরক
জাতীয় কিছু একটা পাওয়া গেছে। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে আমাদের পুরো টিম নিয়ে এসে দেখতে পাই
একটি ভাঙ্গা মটকার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো প্রচুর শক্তিশালী গ্রেনেড রয়েছে। এর মধ্যে
মোট ১৬টি গ্রেনেড ছিল। যেগুলো হলো আরজেস গ্রেনেড। ঘটনাস্থলটি সম্পূর্ণ ঝুকিপূর্ণ ছিল
যে কারণে রোবটের মাধ্যমে সবগুলো গ্রেনেড দেখার চেষ্টা করি পিনগুলো অক্ষত আছে কিনা।
পিনগুলো ঠিকমতো থাকায় পরবর্তীতে সবগুলো গ্রেনেড
আলাদা করতে সক্ষম হই। যেহেতু এগুলো অনেক আগের তাই আলাদা করতেও অনেক সমস্যা হচ্ছিল।
আমাদের টিমের দুজন সদস্য (বোম্বটেক) বোম্ব স্যুট পড়ে আলাদা আলাদাভাবে বিস্ফোরকগুলো নিস্ক্রিয়
করতে সক্ষম হই।
তিনি বলেন, আরজেস গ্রেনেডগুলো খুবই শক্তিশালী গ্রেনেড। এ গ্রেনেডগুলো
কোন দেশে তৈরি তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কারণ বিস্ফোরকগুলোর মধ্যে কোনো ম্যানুফ্যাকচারাল
মার্ক পাওয়া যায়নি। এগুলো অনেক আগের গ্রেনেড। তবে এ ধরনের গ্রেনেড আমাদের দেশে ২১ আগষ্ট
গ্রেনেড হামলার সময় ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে যাব।
বিস্ফোরক অধিদপ্তরেও পাঠানো হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা যাবে কবে এবং কোন দেশে
এগুলো তৈরি হয়েছে। কত দিন আগে এগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে এবং কারা এগুলো মাটিতে
পুঁতে রেখেছে তা তদন্তের আগে বলা যাচ্ছে না।










