রংপুরে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার এক বছরেও শেষ হয়নি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) দুই হাজার টন ধারণক্ষমতার বীজ আলু সংরক্ষণাগারের নির্মাণকাজ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানোর আবেদন করে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সে অনুযায়ী বাড়তি সময়ও দেয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে সে মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো হিমাগার ভবন নির্মাণের প্রাথমিক কাজ অর্থাৎ গ্রেড বিমের কাজ চলছে। এ অবস্থায় কবে নাগাদ হিমাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হবে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। 

বিএডিসির রংপুর জোনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৬ জুন ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১ হাজার ৫০০ বর্গফুট আয়তনের হিমাগার নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ইকম-ইইএল জেভি নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একই বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কাজ শুরু করে তারা। ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। যথাসময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণকাজের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদও এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। 

বিএডিসি (নির্মাণ) রংপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসউদুল করিম বলেন, ‘হিমাগার নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া নির্ধারিত ৪৫০ দিন শেষ হয়েছে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর। পরে তারা বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক বরাবর সময় বাড়ানোর আবেদন করে। সে অনুযায়ী তিন মাস বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদও গত ১১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে গেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি গ্রেড বিমের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯০ ভাগ।’ কবে নাগাদ হিমাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হতে পারে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কেউই কিছু জানাতে পারেনি।’ 

এদিকে আলু রোপণ মৌসুমে বিএডিসির বিদ্যমান এক হাজার টন ধারণক্ষমতার হিমাগারের বীজ দিয়ে কৃষকের ব্যাপক চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আলু উৎপাদন খ্যাত রংপুরে মানসম্পন্ন আলুবীজ বাইরের জেলায় অবস্থিত হিমাগার থেকে সংগ্রহ করতে ডিলার ও কৃষককে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, খরচও বাড়ছে। 

সরজমিন রংপুর বিসিক শিল্পনগরীতে নির্মাণাধীন হিমাগার ভবন এলাকা ঘুরে কোথাও নির্মাণের তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। কিছু শ্রমিককে গ্রেড বিমের জন্য রডের কাজ করতে দেখা যায়। কথা বলার জন্য সেখানে দায়িত্বশীল কাউকে না পেয়ে পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল হালিমের সঙ্গে ফোনে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। নির্মাণ উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। 

মো. আবদুল হালিম বলেন, ‘প্রতি টন রডের দাম ধরা হয়েছে ৭৪ হাজার টাকা। অথচ এখন প্রতি টন রডের বাজার দর ১ লাখ টাকা। শুধু রডই লাগবে প্রায় ৪২৬ টন। এছাড়া অন্যান্য উপকরণ তো আছেই। বর্তমানে গ্রেড বিমের কাজ চলছে। আশা করি, দ্রুত হিমাগার ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।’ 

বিদ্যমান এক হাজার টন বিএডিসি আলুবীজ হিমাগারের উপপরিচালক মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘বর্তমানে ৮০০ টন বীজ আলু রাখা যায়। নতুন দুই হাজার টন ক্ষমতাসম্পন্ন হিমাগারটি নির্মাণ হলে ডিলার ও কৃষককে দূরে যাওয়ার ভোগান্তি এবং অর্থ অপচয় বন্ধ হবে। এছাড়া নতুন হিমাগার চালু হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’