পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ মূল ভূখণ্ডের সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন করতে চার লেনের সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। গতকাল সেতুর পাইলিং কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী ১ হাজার ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুর পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ডিআইএসএফ প্রকল্প পরিচালক ক্যাপ্টেন মনিরুজ্জামান, বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মাহমুদুল হাসান খান, ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক আতিকুল ইসলাম, বোর্ড পরিচালক আব্বাস উদ্দীন, বন্দরের প্রথম জেটি প্রকল্প পরিচালক মো. নাসির উদ্দীন, হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শরিফুর রহমান, ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমানসহ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে সেতুটি। বন্দরের ছয় লেন রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত সেতুটি নির্মাণ হলে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের সঙ্গে পায়রা বন্দরের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে পায়রা বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম দ্রুত ও সহজ হবে। এছাড়াও বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি সঞ্চার হবে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনা রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ এবং চীনা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্টিটিউশন করপোরেশনের সঙ্গে সেতু নির্মাণকাজের চুক্তি হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্ধারমানিক নদের নাব্য এবং সার্বক্ষণিক জাহাজ লঞ্চ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সেতু এক্সট্রাডোজড পদ্ধতিতে মাত্র দুটি পিলার স্থাপন করা হবে। কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে দৃষ্টিনন্দন ও আইকনিক সেতু হবে এটি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ হাজার ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২৭ মিটার প্রস্থ চার লেনের আন্ধারমানিক সেতুটির মূল অংশে ২৭টি স্প্যানে বক্স গার্ডার পদ্ধতিতে নির্মিত হবে। নদের মধ্যবর্তী সেতুর মূল স্প্যানটি ১০০ মিটার বা ৩২৭ ফুট প্রস্থ ও সর্বোচ্চ জোয়ার থেকে ৬০ ফুট উচ্চতায় ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স বা ঊর্ধ্বমুখী খোলা রাখা হবে। জ্বালানি ও পণ্যবাহী নৌযান ছাড়াও নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের বড় নৌযান নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।










