রাজধানীর গুলশানে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবলের
গুলিতে নিহত হয়েছেন আরেক পুলিশ সদস্য মনিরুল ইসলাম। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মাহাবুবুর
হক বাদী হয়ে রোববার (৯ জুন) গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তারা দুজনই ডিপ্লোমেটিক
সিকিউরিটি জোনের দায়িত্বরত ছিলেন। এ সময় এলোপাতাড়ি ছোড়া গুলিতে জাপান দূতাবাসের এক
কর্মীও গুরুতর আহত হন।
ডিপ্লোমেটিক জোনে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের হাতে ব্রাজিল
থেকে আমদানিকৃত এসএমটি সাবমেশিনগান দেয়া আছে। এ অস্ত্র দিয়ে মিনিটে ৬০০ রাউন্ড গুলি
করা যায়। ঠিক এমনই একটি অত্যাধুনিক এসএমটি-৯ নিয়ে ডিউটিরত অবস্থায় এক পুলিশ সদস্য আরেক
পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। শনিবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১১টার পর ঘটা এ ঘটনায়
অভিযুক্ত কনস্টেবল কাওছার আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের
জন্য দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত মনিরুল ইসলামের ভাই মাহাবুবুর হক বাদী হয়ে করা
মামলায় ৩০২/৩০৭/৩২৬ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে এসএমটি-৯ অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি
করে মৃত্যু ঘটানো ও হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অপরাধ আনা হয়েছে। পুলিশ
গুলির ঘটনার পর একটি এসএমটি-৯ অস্ত্র, ২টি ম্যাগাজিন, ২২ রাউন্ড গুলি, ৩৪টি গুলির খোসা,
একটি চায়নিজ রাইফেল ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। নিহত মনিরুল ইসলামের ভাই ও মামলার
বাদী মাহাবুবুর হক মহাখালী বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য
কাওসারের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। আর নিহত পুলিশ সদস্যের বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায়।
গোলাগুলির ঘটনায় জাপান দূতাবাসের গাড়িচালক সাজ্জাদ হোসেন আহত হয়েছেন।
তিন রাউন্ড গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত সাজ্জাদ পুলিশকে
জানিয়েছেন, তিনি সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন এক পুলিশ সদস্য আহত হয়ে পড়ে আছেন।
তিনি এর কারণ জানতে এগিয়ে গেলে সেখানে থাকা কনস্টেবল তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। সেই
গুলিতে তিনি আহত হন।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় করা মামলার এজাহারে বাদী মাহাবুবুর হক হত্যাকাণ্ডের
বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই কনস্টেবল মনিরুল হক (২৭) গুলশান ডিপ্লোমেটিক
সিকিউরিটি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শনিবার রাতে পুলিশ কনস্টেবল কাওছার আলীর সঙ্গে মনিরুল
গুলশান বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ফিলিস্তিন দূতাবাসের পুলিশ বক্সে সশস্ত্র অবস্থায়
ডিউটিতে ছিল। রাত অনুমান ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কনস্টেবল কাওছার আলীর সঙ্গে ডিউটি নিয়ে
আমার ভাইয়ের বাকবিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে আসামি উত্তেজিত হয়ে আমার ছোট ভাইকে উদ্দেশ্য
করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। তার গুলির আঘাতে আমার ভাই ফিলিস্তিন দূতাবাসের পুলিশ
বক্সের সামনে উপুড় হয়ে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। কাওছারের এলোপাতাড়ি গুলিতে
পথচারী জাপান অ্যাম্বাসিতে কর্মরত গাড়িচালক সাজ্জাদ হোসেনও গুলিবিদ্ধ হন। তিনি গুলশান
ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।










