চট্টগ্রামের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্টে নিরাপত্তা ঘাটতি ও অবহেলার বিষয়গুলো উঠে এসেছে। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিং তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চলতি মাসের ১৪ তারিখে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজ ভাঙার কাজ চলাকালে একটি ব্যাল্যাস্ট ট্যাংকে ছিদ্র করার সময় সেখান থেকে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস নিঃসৃত হয়। সেই গ্যাসের সংস্পর্শে এসে সেখানে কর্মরত ১০ জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেন।
এ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। রিপোর্টে ইয়ার্ডে কোথায় কোথায় অবহেলা ও নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল তা উঠে এসেছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছে। বর্তমানে শিপ রিসাইক্লিং খাতটি একটি বিকাশমান শিল্প। আগের তুলনায় এখন বেশ কয়েকটি ইয়ার্ড ‘গ্রিন সার্টিফাইড’ হয়েছে এবং আরো কিছু ইয়ার্ড সার্টিফিকেশনের প্রক্রিয়ায় আছে।
এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী বলেন, গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ইয়ার্ডটিতে ব্যালাস্ট ট্যাংক ছিদ্র করার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস নির্গত হয়ে শ্বাসরোধে ১০ জন কর্মী মৃত্যুবরণ করেন। আমাদের তদন্তে দেখা গেছে, ট্যাংক ছিদ্র করার সময় শ্রমিকদের কোনো গ্যাস মাস্ক বা এসসিবিএ ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি।
ছুটির দিনে এ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ পরিচালিত হলেও সেফটি ম্যানেজার, অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি উদ্ধার টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না। এমনকি দুর্ঘটনার দিন কর্মরত শ্রমিকদের তালিকার সাথে বিএসআরবিতে দাখিলকৃত অনুমোদিত তালিকার বড় ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে।
ভবিষ্যৎ করণীয় ও আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটির পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং ইয়ার্ডটিতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। সামগ্রিক পর্যালোচনায় ইয়ার্ড মালিক ও সেফটি টিমের চরম অবহেলা স্পষ্ট হওয়ায় 'দ্যা শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলস ২০১১'-এর ৪৫ (৩) ও ৪৬ (৬) নম্বর বিধি অনুযায়ী মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা আমদানিকৃত জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকের স্যাম্পল টেস্ট ও ডিজিটাল রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করা সহ মোট ৩৫টি সুপারিশ পেশ করেছি।










