ময়মনসিংহ জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড-সংখ্যক সর্বোচ্চ ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জন করোনায় এবং ১৪ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মমেক হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি ৫২৭ জন। এরমধ্যে দুই নবজাতকও রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের একমাত্র বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিবিএমসিবি) করোনা রোগী ভর্তি ২৯ জন ও উপসর্গ নিয়ে ১০ জনসহ মোট ৩৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

গতকাল মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার পাঁচজন, নেত্রকোনার ছয়, জামালপুরের দুই, টাঙ্গাইলের দুই ও গাজীপুরের একজন রয়েছে।

করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১৪ জনের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার সাতজন, নেত্রকোনার তিন, জামালপুরের দুই, শেরপুরের এক ও সুনামগঞ্জের একজন।

ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, করোনা ইউনিটে ২৩০ শয্যার বিপরীতে ৫২৫ জন রোগী ভর্তি আছে। এরমধ্যে আইসিইউতে ২৩ জন। নতুন শনাক্ত ৩৫১ জন, নতুন ভর্তি ৫১ জন আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় ওয়ান স্টপ ফ্লু কর্নারে মোট সেবা নিয়েছে ৪৩৬ জন এবং টেলিমেডিসিন সেবা নিয়েছে ৩০ জন।

মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন দুই নবজাতক করোনার পাশাপাশি নিউমোনিয়া রোগেও আক্রান্ত। করোনায় আক্রান্ত এক নবজাতকের বয়স ২৩ দিন। ওই নবজাতক ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মানিক মিয়া ও নিলুফা দম্পতির সন্তান। অন্য নবজাতকের বয়স ১৩ দিন। সে জেলার তারাকান্দা উপজেলার লিটন মিয়া ও রানু আক্তার দম্পতির সন্তান।

ডা. মুন জানান, জুলাই থেকে এ পর্যন্ত মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১০ নবজাতকের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আট নবজাতক সুস্থ হয়েছে। বর্তমানে দুজন চিকিৎসাধীন। তারা সবাই করোনায় আক্রান্ত ছিল।

এদিকে ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ জেলায় ১ হাজার ৭১১ নমুনা পরীক্ষা করে ৪০২ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।