নিয়মের বালাই নেই বাংলাদেশ রেলওয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগে। হঠাৎ অদৃশ্য কারণে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি-পদায়ন নিয়মেই পরিণত হয়েছে এ বিভাগে। রেলওয়ের অর্থ বিভাগে দায়িত্বরত কিছু কম্পিউটার অপারেটর বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন অনিয়ম, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, আইন লঙ্ঘনসহ নানা বিষয় নিয়ে। তার পরও থেমে নেই পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনসহ নানা অনিয়ম। তবে ডেপুটি সিএজির (সিনিয়র) সঙ্গে একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি দেখা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে পদোন্নতি, গ্রেডসহ বিভিন্ন বিষয়ে বঞ্চিত হতে পারেন দায়িত্বরত একাধিক কর্মচারী।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সরকারি একাধিক নিয়ম, আইন লঙ্ঘন করে রেলওয়ের অর্থ বিভাগে পদায়ন, পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। একই গ্রেডভুক্ত হলেও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নন-ক্যাডার জুনিয়র অডিটরদের পদোন্নতির কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন কম্পিউটার টাইপিস্টসহ একই গ্রেডের কর্মীরা। সম্প্রতি এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ জানানোর পরও নিয়ম ভেঙে পদায়ন ও পদোন্নতি থামছে না।
সরকারি সর্বশেষ জারীকৃত নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা-২০১১-এর ৪(২) অনুসারে, বিভিন্ন পদের সমন্বিত জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রেণীর প্রারম্ভিক পদে নিয়মিত যোগদানের তারিখের ভিত্তিতে সমন্বিত জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ হবে। কিন্তু এ বিধি না মেনে বর্তমান এডিজি অর্থ দপ্তরে পদোন্নতি ও পদায়ন করছে।
সবকিছু নিয়মের মধ্যেই হয়েছে দাবি করে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) আনিসুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে রেলওয়ের অর্থ-হিসাব বিভাগে যেসব পদোন্নতি, বদলি করা হয়েছে, সব নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। নিয়ম ও বিধির বাইরে কিছুই করা হয়নি। এসব নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ থাকলেও লিখিত বা মৌখিকভাবে কেউ জানায়নি। কোন বিষয়ে সমস্যা হয়েছে, আগে জানতে হবে, তারপর নিয়ম নাকি অনিয়ম জানা যাবে। তবে আইন বা নিয়মের বাইরে কোনো ধরনের কাজ হয়নি এবং নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।
রেলওয়ের একাধিক নথি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৬ মার্চ সিএজি অফিস আদেশের মাধ্যমে এসএএস/এসআরএএস দ্বিতীয় পর্ব-২০২০ পরীক্ষায় অর্থ ও হিসাব বিভাগের ৫১ জন অডিটর, জুনিয়র অডিটর, স্টেনোগ্রাফার ও কম্পিউটার টাইপিস্ট উত্তীর্ণ হন। দীর্ঘ আট মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সমন্বিত জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ না করে একই বছরের অক্টোবরে শুধু অডিটর ও জুনিয়র অডিটর থেকে ৩৫ জনকে পদোন্নতি দেয়। এ কারণে এসব কর্মী একটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট থেকে বঞ্চিত হন।
পরে আরো পাঁচজনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। অর্থ ও হিসাব বিভাগে কম্পিউটার টাইপিস্টরা জুনিয়র অডিটরের চেয়ে চাকরিতে জ্যেষ্ঠ হলেও উত্তীর্ণ জুনিয়র অডিটরদের পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। জুনিয়র অডিটর ও কম্পিউটার টাইপিস্ট উভয়ই ১৬তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারী হলেও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ না করে ওই ৩৫ জনকে পদায়ন করা হয়েছে, যা নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা, ২০১১-এর ধারা ৯-এর পরিপন্থী।
২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি রেলওয়ের হিসাব ও অর্থ বিভাগে যোগদানকারী একজন স্টেনোগ্রাফার ১৩তম গ্রেডভুক্ত কর্মী হওয়া সত্ত্বেও তাকে অদ্যাবধি পদায়ন/পদোন্নতি দেয়া হয়নি। অর্থ বিভাগের বিভাগীয় পরীক্ষায় পাস করা সত্ত্বেও ১৩তম গ্রেডের একজন কর্মীকে পদায়ন না করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত কর্মীদের পদায়নের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।









