দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল গতকাল যশোরে খুলনা ও ঢাকা বিভাগের নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রের ভেতরে আমরা কেউ থাকব না। ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রিসাইডিং অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসাররা থাকবেন। আজকের বৈঠকে কঠোরভাবে এ বার্তা দেয়া হয়েছে, ভোট কেন্দ্রের ভেতরে যাতে কোনো অনিয়ম, কারচুপি, কোনো রকম দখলদারত্ব বা কোনো রকম পেশিশক্তির প্রয়োগ না হয়, সেজন্য তাদের যেন ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, তাদের যেন জবাবদিহি করা হয়, সেই বার্তাটুকু রিটার্নিং অফিসারদের দেয়া হয়েছে।’

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল যশোরে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ও ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলার ডিসি-এসপি, ইউএনও-ওসিদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি। সকাল ১০টায় যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক অডিটোরিয়ামে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর ২৯০ কর্মকর্তা অংশ নেন।

সিইসি বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার যারা আছেন, জেলা প্রশাসকরা সাধারণভাবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনাররা রিটার্নিং অফিসার। রিটার্নিং অফিসারকেই কিন্তু মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। ওনারাই ইলেকশন কমিশন, ওনারাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সমস্ত ক্ষমতা ওনাদের ডেলিগেট করে দেয়া হয়েছে। তাদের এ দায়িত্ব নিতে হবে, দায়িত্ব বহন করতে হবে এবং সুচারুভাবে, সুষ্ঠুভাবে দায়িত্বটা পরিসমাপ্ত করতে হবে।’

তিনি জানান, আজ মাঠ প্রশাসনের যারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ, রÅাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার-ভিডিপি সবার সঙ্গে তাদের মতবিনিময় হয়েছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের কাছ থেকে শোনা, তারা কীভাবে কাজ করছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে কোনো রকম বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন কিনা এগুলো তারা জানতে চেয়েছেন। তারা (নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) যে সংবাদগুলো দিয়েছেন, মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা এগিয়ে যাচ্ছে, অসুবিধা হচ্ছে না।

সিইসি বলেন, ‘আমরা আমাদের তরফ থেকে তাদের বলেছি, যেকোনো মূল্যে আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়। কোনো রকম বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, শান্তিভঙ্গ যেন না হয়, পরিবেশটা যেন অনুকূল থাকে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনভাবে ভোট কেন্দ্রে এসে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।’

নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমরা ঘটনাগুলোর খোঁজখবর রাখছি। এসব ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনারাও সবাই সহযোগিতা করবেন। আপনাদের মাধ্যমে হয়তো আমরা এ তথ্যগুলো পাব। আমরা আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, আমাদের তরফ থেকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করতে হবে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন প্রতিহত করা হয়। হয়তো দু-চারটা ঘটনা ঘটবে, ব্যাপকভাবে যেন এ ঘটনাগুলো কোনোভাবেই না ঘটে, তারা তাদের দায়িত্বজ্ঞান দিয়ে, প্রজ্ঞা দিয়ে, প্রশিক্ষণ দিয়ে, বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন এবং বিধিবিধানগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন।’

ব্রিফিংকালে নির্বাচন কমিশনের সচিব জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার হেলাল মাহমুদ শরীফ, খুলনা রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মঈনুল হক, যশোরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবরাউল হাছান মজুমদার ও পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার উপস্থিত ছিলেন।