লবণাক্ততার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের অকালগর্ভপাত, প্রজননতন্ত্রের সমস্যা, ঋতুচক্রজনিত সমস্যাসহ জরায়ু কেটে ফেলার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি কেবল উপকূলের নারীর স্বাস্থ্যহানি ঘটাবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। কারণ নারীরাই উপকূলের কৃষি ও মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

গতকাল সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সভা কক্ষে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক আয়োজিত ‘সুন্দরবন উপকূলে লোনা পানির প্রভাব ও নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি’ শিরোনামে এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

লবণাক্ততার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নারীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ, বিস্তর গবেষণা ও সুনির্দিষ্ট তহবিল গঠন করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে সেমিনারে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

সেমিনারে জেলা স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পুলক চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সাতক্ষীরা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বাবুল আক্তার, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আনিছুর রহিম, বারসিকের পরিচালক ও গবেষক পাভেল পার্থ। সেমিনারে ধারণাপত্র পাঠ করেন সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না।

আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সোনা রানী দাশ, ডা. স্মৃতিভা, ডা. আসাদুজ্জামান নূর, ডা. আশরাফুল, ডা. এসএমএ মুক্তাদির তামিম, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, এম কামরুজ্জামান, শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, গোলাম সরোয়ার, ইয়ারব হোসেন, আসাদুজ্জামান সরদার, পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু, রামকৃষ্ণ জোয়ারদার প্রমুখ।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়। শ্যামনগর উপকূলে লবণাক্ততা ও নারীর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে একটি পাইলট স্ট্যাডি হতে পারে। আমাদের চিকিৎসকদেরকেরও গবেষণাকাজে আরো বেশি যুক্ত হওয়া দরকার। এভিডেন্স বেজ প্র্যাকটিস এবং এভিডেন্স বেজ ট্রিটমেন্ট আরো বেশি বাড়ানো দরকার।

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সোনা রানী দাশ বলেন, জরায়ুুমুখে ক্যান্সার হচ্ছে কিনা, এর পরীক্ষার ব্যবস্থা সরকারি হাসপাতালে আছে। কিন্তু বায়েপসি পরীক্ষার ব্যবস্থা আমাদের সব জায়গায় নেই। লবণাক্ততার কারণেই জরায়ু ক্যান্সার বাড়ছে কিনা, এ বিষয়ে আমাদের আরো বেশি গবেষণা দরকার।