সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও প্রকল্পভিত্তিক শ্রমজীবীদের চাকরির স্থায়িত্ব ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।
আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক, আউটসোর্সিং ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী নিয়োগে ঠিকাদার প্রথা বাতিল করতে হবে। তাদের সরাসরি প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ দিয়ে চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
এছাড়া একই প্রতিষ্ঠানে এক কাজের জন্য কেউ বাড়তি সুবিধা পাবে, কেউ পাবে না— এ ধরনের বৈষম্য চলবে না। সব কর্মীকে সমান সুবিধা দিতে হবে ও কোনো দক্ষ কর্মীকে অযৌক্তিকভাবে ছাঁটাই করা যাবে না। বক্তারা আরো বলেন, প্রতিটি কর্মীকে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতে হবে ও সব ধরনের বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে হাজার হাজার আউটসোর্সিং ও প্রকল্পভিত্তিক কর্মী বছরের পর বছর কাজ করলেও তারা চাকরির নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। তাই এই অনিশ্চয়তা দূর করে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের খন্ডকালীন শিক্ষক মাহা মির্জা আউটসোর্সিং কর্মীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সরকারের ব্যয়ভার কমানোর নামে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এক ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য হচ্ছে। একটা মাফিয়া চক্র এই নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এটার সঙ্গে শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জড়িত নয়, সরকারি দপ্তরগুলোই এই লাগামহীন নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বৈষম্যবিরধী আন্দোলনের পরও কোথাও বৈষম্য কমেনি। একই ধরনের কাজ করে আউটসোর্সিং কর্মীদের অনেকেই সীমিত সুবিধা পাচ্ছে। এটা তো অনেক বড় বৈষম্য। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও আজ আমরা সমতা খুঁজে ফিরছি। কত রকম চাকরি আছে, বেতন স্কেল কত রকমের, ওয়েজের কত রকম পার্থক্য আছে, তাদের মধ্যে কত রকম বৈষম্য আছে এগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত বিবরণ নেই। বৈষম্যবিরোধী সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে বলে যারা ক্ষমতায় এলেন, তারাও বৈষম্য করছেন।










