কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, দিনাজপুর ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট জেলাগুলো কৃষির জন্য খুবই সম্ভাবনাময়। আধুনিক কৃষি, বাণিজ্যিক কৃষি যদি আমরা করতে পারি তাহলে কৃষক লাভবান হবে, দেশ হবে সমৃদ্ধ। আর এ কারণেই আমি দিনাজপুরে এসেছি নিজের চোখে কৃষির সম্ভাবনাকে দেখতে।

গতকাল দিনাজপুর নশিপুর এলাকায় ‘বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের কৃষিপ্রযুক্তি প্রদর্শন মেলা-২০২১’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, একসময় এ অঞ্চলে খাদ্য সংরক্ষণ করার সক্ষমতা ছিল খুবই সীমিত। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে হিমাগার তৈরি করেছি। ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পাচ্ছেন। এখন আমাদের প্রয়োজন কৃষির আধুনিকায়ন। প্রথাগত কৃষির ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া খুবই উর্বর। দিনাজপুরসহ এ অঞ্চলের মাটিতে এমন কোনো ফসল নেই, যেটি ফলানো সম্ভব নয়। আমাদের এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।

এ সময় তিনি বলেন, আমরা দেখেছি ফরিদপুরের একজন কৃষক পেঁয়াজের বীজ বিক্রি করে ৩ কোটি টাকা আয় করে। সাতক্ষীরার এক কৃষক এক বিঘা জমিতে ১ লাখ টাকার গ্রীষ্মকালীন টমেটো বিক্রি করেন। এ আয় আরো কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। বর্তমান কৃষিতে দেশের যে অন্যান্য সাফল্য, তা বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইব্রিড ভুট্টা ও শাকসবজি উৎপাদনে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফসলের নিবিড়তা গত পাঁচ বছরে শতকরা ১৯২ থেকে ২১৬ ভাগে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে কৃষিতে বাংলাদেশের অবস্থান—পাট উৎপাদনে সপ্তম, পাট ও কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, ধান উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম আলু উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন কৃষিতে রোল মডেল।