জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আমল থেকে কার্যকর হয়ে আসা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন, ১৯০০’ বহাল রাখতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বান্দরবানের হেডম্যান কারবারিরা।  গতকাল নিজ কার্যালয়ের কক্ষে হেডম্যান কারবারিদের দেয়া স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভীন তীবরীজি। এ সময় তিনি বলেন, স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের আমল থেকে তিন পার্বত্য জেলায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন, ১৯০০’ আইন কার্যকর হয়ে আসছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, বহুত্ববাদী ও প্রগতিশীল চেতনাকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালে তত্কালীন ক্ষমতাসীন দলের অ্যাটর্নি জেনারেলের বৈষম্যমূলক অবস্থান ও উপস্থাপনার জেরে ১৯০০ সালের রেগুলেশনকে মৃত আইন মর্মে ঘোষণা দেন হাইকোর্ট। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে ১৯০০ সালের রেগুলেশনকে বৈধ ও কার্যকর আইন মর্মে রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এ ঘোষণাকে অগ্রাহ্য করে গত বছর অক্টোবর মাসে অন্য দুই পক্ষ আপিল বিভাগে দুটি ভিন্ন পিটিশন দায়ের করে। এ কারণে পাহাড়ের প্রথাগত নেতারা শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ প্রথাগত আইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০-এর কার্যকারিতা বহাল রেখে পার্বত্যাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রায় ও আদেশ প্রদান করেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালে বান্দরবান বোমাং রাজপদের স্বীকৃতি, ২০০৪ সালে খাগড়াছড়ির মং রাজপদের স্বীকৃতি, ২০১৪ সালে মারমা জনগোষ্ঠীর প্রথাগত আইন অনুসারে  ও মং রাজার পরামর্শক্রমে উত্তরাধিকার নির্ধারণ, ২০১৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষভাবে আইন প্রণয়নের পদ্ধতির বিষয়ে স্পষ্টীকরণ, ২০২০ সালে চাকমা উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত সনদ প্রদানে সার্কেল চিফ ও মৌজা হেডম্যানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।