চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে শিক্ষা সূচকের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে মেয়েরা। মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রতি বছর পাসের হারেও এগিয়ে তারা। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ছেলেদের তুলনায় মেয়ে শিক্ষার্থী বেশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির হারও মেয়েদের বেশি। এসবকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ হাজার ৮৬১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৪ হাজার ১৪৫ শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ২৬৩ জন মেয়ে। আর ছেলে ১ হাজার ৮৮২ জন। ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৭ হাজার ৩৯৯। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৬ হাজার ১২০ জন। এদের মধ্যে মেয়ে ৩ হাজার ৪২৭ ও ছেলে ২ হাজার ৬৯৩ জন। ২০২০ সালে ৫ হাজার ১৯৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ হাজার ৯৮৬ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে মেয়ে ২ হাজার ৭৪২ ও ছেলে ২ হাজার ২৪৪। ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৬ হাজার ৪৪৫ জন। এদের মধ্যে ছেলে ২ হাজার ৪১৭ ছেলে, মেয়ে ৩ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
২০২২ সালে ৫ হাজার ৭৪৩ পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে মেয়ে ২ হাজার ৮৬০ ও ছেলে ২ হাজার ১১০ জন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৫ হাজার ৫৬৯ জন। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৪ হাজার ৭৪২ জন। ওই বছরও পাসের হারে এগিয়ে ছিল মেয়েরা। ২০২৩ সালে এসএসসি পাস করে ২ হাজার ৬৩২ জন মেয়ে। অন্যদিকে পাস করা ছেলে ছিল ২ হাজার ১১০ জন।
উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারেও মেয়েরা এগিয়ে। এছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দিক থেকেও এগিয়ে থাকে তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ডা. জামশেদ আলম বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলের তুলনায় মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পাসের হারও বেড়েছে। এছাড়া মেয়েরা ঘরের কাজ সামলানোর পাশাপাশি শিক্ষায়ও বেশ মনোযোগী হয়েছে যা দেশের জন্য ইতিবাচক।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির খান বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। তাই পাসের হারে ছাত্রীরা বেশি এগিয়ে।’









