জাকার্তায় বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন(এফওসি) বা পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়া সরকারের মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডের ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) ১৩ এপ্রিল জাকার্তায় আন্তরিক ও দূরদর্শী পরিবেশে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। ইন্দোনেশীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আফ্রিকা বিষয়ক মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত ড. সান্তো দারমোসুমার্তো।
এতে আরো বলা হয়, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত সফল উদ্বোধনী রাউন্ডের পর দুদেশের মধ্যে একটি কাঠামোগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডের বৈঠকটি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সমগ্র বিষয় পর্যালোচনা করার পাশাপাশি বৈঠকটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় ইস্যুতে মত বিনিময়ের জন্য একটি ব্যাপক ও গঠনমূলক প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল অর্থনীতি, নিরাপত্তা, কানেক্টিভিটি, পর্যটন, মৎস্য, সংস্কৃতি এবং জনযোগাযোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনায় অংশ নেয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ পক্ষ ওষুধ শিল্প, আতিথেয়তা, পর্যটন, আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চামড়া এবং পাদুকা শিল্পের মতো উচ্চ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে ইন্দোনেশীয় বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
এছাড়া উভয় পক্ষ বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে এবং ট্রেড নেগোশিয়েটিং কমিটি ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা দ্রুত আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে। তারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করতে বেসরকারি খাতের মধ্যে বৃহত্তর সম্পৃক্ততার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এবং সংশ্লিষ্ট সব অনিষ্পন্ন আইনি বিষয় দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ বর্ধিত কানেক্টিভিটির গুরুত্ব স্বীকার করে ইন্দোনেশিয়াকে বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ভিসা পদ্ধতি সহজ করার বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে। যাতে বৃহত্তর যাতায়াত ও বিনিময় সহজতর হয় এবং সরাসরি ফ্লাইট চালু করা যায়। খাদ্য নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অভিন্ন অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটিয়ে উভয় পক্ষ কৃষি ও মৎস্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সুযোগের কথা স্বীকার করেছে।
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং তাদের টেকসই জীবিকা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থন চেয়েছে। বাংলাদেশ আসিয়ানের (এএসইএএন) সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আবেদনের পক্ষেও ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চেয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পার্শ্ববৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ আনিস মাত্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দুদেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক দেওয়ান হোসনে আইয়ুব; জাকার্তায় বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মৌসুমী রহমান; জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব এ কে এম ফজলুল হক; এবং ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব আতিক মাহমুদ।
ইন্দোনেশীয় প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্তিওওয়াতি, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক পরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে ইন্দোনেশীয় দূতাবাসের কূটনীতিকরা এবং সংশ্লিষ্ট ইন্দোনেশীয় মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা।










