রমজানে ঢাকায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সুলভ মূল্যে
মাছ, গরুর মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রির ব্যবস্থা হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে সে ধরনের কোনো প্রক্রিয়া
না থাকায় চট্টগ্রামবাসী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ সেবা থেকে বঞ্চিত। এক সময়
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বেসরকারি খামারিদের সহযোগিতায় রমজানে দুধ, ডিম বিক্রির ব্যবস্থা
করলেও তা বর্তমানে চালু নেই। বিষয়টি নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ
সেলিম উদ্দীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সচিব মহোদয় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস
দেন।
মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে এক অনানুষ্ঠানিক
মতবিনিময়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের নেতারা উপরোক্ত
বিষয়টির অবতারণা করেন।
ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের নেতৃত্বে
এ উপলক্ষে অন্যদের মধ্যে ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার
ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম
মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমান আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
ডা. রেয়াজুল হক, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম,
চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম
সচিব ও প্রাণিসম্পদ এবং ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আবদুর রহিম, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ
অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. একেএম হুমায়ুন কবির, সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা
লতিফুল হক কাজমিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মোহাৎ সেলিম উদ্দীন চট্টগ্রামে সুলভ মূল্যে
মৎস্য ও প্রানিজ পণ্য বিক্রির বিষয়ে ক্যাব চট্টগ্রামের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন,
সরকারের সীমিত সামর্থ্যে ঢাকা শহরে চলমান থাকলেও দেশের অন্যান্য জেলা বিশেষ করে চট্টগ্রামে
এ সেবা চালু করা দরকার। তবে বেসরকারি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে
বিষয়টি অবশ্যই টেকসই হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যাবতীয় অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সহযোগিতা
প্রদান করা হবে। তিনি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসকদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। বেসরকারি
উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলেই মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে। তবে চট্টগ্রাম
যেহেতু বৃহত্তম শহর, অনেক বিদেশী এখানে বসবাস করেন, সে কারণে নিরাপদ মৎস্য ও প্রানিজ
পণ্য বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত না হলে আর্ন্তজাতিকভাবে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে বলে মত
প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও লাইভ বার্ড বিক্রির ব্যবস্থা নেই, সবাই
ফ্রোজেন পদ্ধতিতে চলে গেছে। আর ফ্রোজেন হলে ভোক্তারাও সাশ্রয়ী দামে পণ্য কিনতে পারবে।
সে কারণে আমাদেরকেও ফ্রোজেন পদ্ধতিতে চলে আসতে হবে। দেশে মাংস উৎপাদনকারী অনেকেই মানসম্মতভাবে
বাজারজাত করছেন।
ক্যাব নেতারা বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে পোল্ট্রি সেক্টরে
সুশাসন নিশ্চিতকরণ কাজের অংশ হিসেবে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় চট্টগ্রামে ড্রেসড
ব্রয়লার বিক্রি কার্যক্রম সম্প্রসারণে অনেকগুলো উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে
চট্টগ্রামে একটি স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক পশু জবাইখানা স্থাপনের দাবি বেশ অনেক দিন ধরে।
এছাড়াও সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২১টি বাজারে লাইভ বার্ড বিক্রি, মুরগী জবাই, মাছ পরিষ্কার,
পানি সরবরাহ নিশ্চিতসহ বাজারগুলোয় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতে অনেকগুলো উদ্যোগ
নেয়া হয়েছিল। এছাড়াও পোল্ট্রি সেক্টরে নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে ক্ষুদ্র
খামারি, পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধের বাজার পরিদর্শন, পোল্ট্রি ফিডের মান পরীক্ষা, নিরাপদ
লাইভ বার্ড বিক্রিতে সচেতনতা সৃষ্টিসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও
ক্যাব, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে যৌথ
বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।










