কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় দেশজুড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে যোগাযোগ অবকাঠামো। ঢাকার মেট্রোরেলের দুটি স্টেশনে ব্যাপক ভাংচুর হয়েছে। যাত্রাবাড়ীতে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজা, মহাখালী ও বনানীতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজা পুড়ে গেছে। বনানীর সেতু ভবন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয় ও মিরপুরের আঞ্চলিক কার্যালয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একটি কার্যালয়ে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সড়ক বিভাজকের রেলিং, সড়কবাতিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঢাকার যোগাযোগ অবকাঠামোগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে। স্টেশন দুটি পুনরায় চালু করতে এক বছরের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক। অন্যদিকে ডিএমটিসিএলের এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের উপপরিচালক (জনসংযোগ) তরফদার মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, স্টেশন দুটির কনকোর্স লেভেলের প্রত্যেকটা জিনিসই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিকিট কাটার মেশিন, টিকিট কাটার অফিস, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, কম্পিউটারসহ সব যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। স্টেশনে বসানো অনেকগুলো সিসি ক্যামেরাও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাংচুরের সময় স্টেশন দুটির নিচে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে মেট্রোরেলের উড়ালপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে। ভাংচুরে মেট্রোরেলের ইন্টারকানেক্টিং সফটওয়্যার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তাও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবকিছু পর্যালোচনার পর কবে নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা জানা যাবে।

মেট্রোরেল ছাড়াও চলমান আন্দোলনে বনানীর সেতু ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গতকাল (১৯ জুলাই) থেকে ভবনের বাইরে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। বাইরে যেসব গাড়ি পুড়েছে সেই সংখ্যা আমরা পেয়ে গেছি। এসইউভি/জিপ, মাইক্রোবাস, মিনিবাস, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেলসহ মোট ৫৫টি যানবাহন আগুনে পুরোপুরি পুড়ে গেছে। ভবনের ভেতরে ব্যাপক ভাংচুরের কারণে বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সেতু ভবনসংলগ্ন বিআরটিএ ভবন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একটি অফিসও ভাংচুরের কবলে পড়েছে। এসব ঘটনায় ভবন দুটির বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বাইরে মিরপুরে অবস্থিত বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল অফিসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

আন্দোলনে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে এখনো রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে সড়ক বিভাজকের রেলিং, সড়কবাতিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।