যমুনার পানি কখনো বাড়ছে আবার কখনো কমছে। একই সঙ্গে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চলছে নদীভাঙন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার নাটুয়ারপাড়া রক্ষা বাঁধ। ফলে আতঙ্কে রয়েছে চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।  

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এ বছর চৈত্র মাসের প্রায় শুরু থেকেই যমুনার পানি বাড়তে শুরু করেছে। কখনো পানি বাড়ছে আবার কখনো কমছে। এ কারণে উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলের ছয় ইউনিয়নের প্রবেশদ্বার নাটুয়ারপাড়ায় শুরু হয়েছে ভাঙন। হুমকির মুখে পড়েছে নাটুয়ারপাড়া রক্ষায় আট বছর আগে নির্মিত বাঁধটি। যেকোনো মুহূর্তে নাটুয়াপাড়া রক্ষা বাঁধ ভেঙে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ লাইন ও পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন চরাঞ্চলবাসী। এছাড়া ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছে কাজীপুরের দুর্গম চরাঞ্চলের তেকানী, খাসরাজবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ ও মনসুর নগর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। 

নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নাটুয়ারপাড়া বাজারের পশ্চিমে মাটির বাঁধটি ভেঙে গেলে চরের ছয়টি ইউনিয়নের ব্যবসায়িক কেন্দ্র নাটুয়ারপাড়া হাটবাজার হুমকির মুখে পড়বে। এরই মধ্যে যমুনার ভাঙনে ধান ও ভুট্টাসহ বেশকিছু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাই এ বাঁধটি রক্ষা করা জরুরি।  

কাজিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী জানান, গত বছর যমুনার ভাঙনে নাটুয়াপাড়া ইউনিয়নের অনেক বাড়ি ভেঙে গেছে। এ বছরও এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। যমুনার ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে।  

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, মার্চ মাস থেকে যমুনায় দফায় দফায় পানি বাড়ছে, আবার কমছে। এ কারণে চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ অঞ্চলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের এখন কোনো প্রকল্প হাতে নেই। আমরা প্রতি বছরই ভাঙন রোধে সাময়িক ব্যবস্থা নেই। এ বছরও সে ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।