ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান-১০-এ অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এজন্য লঞ্চের স্টাফদের দায়ী করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আগুনের ঘটনায় গতকাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তারা দুর্ঘটনার জন্য লঞ্চের স্টাফদের দায়ী করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান সুগন্ধা নদীর বিভিন্ন স্থান স্পিডবোট নিয়ে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চটির বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। অনুসন্ধান করে দুর্ঘটনার কিছু কারণ তুলে ধরেন তিনি। দুর্ঘটনার জন্য লঞ্চের স্টাফদের দায়ী করেছেন তিনি।
জিল্লুর রহমান আরো বলেন, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এটার আমরা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। পুরো তদন্ত শেষ করতে আমাদের প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তার পর আমরা একটা ধারণা দিতে পারব কোন কারণে লঞ্চে আগুন লেগেছে। আগুন লাগার পর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ দ্রুত লঞ্চটি নোঙর করে নদীর পারে থামিয়ে রাখলে এত লোকের মৃত্যু হতো না। যেহেতু সুগন্ধা নদী খুব ছোট। কিন্তু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সেটা করেনি, যে কারণে হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর (নৌযান) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাহারুল আমীনও পুড়ে যাওয়া লঞ্চটির বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, এ লঞ্চটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। আগুন নেভানোর জন্য প্রাথমিক যে ব্যবস্থা থাকা উচিত তাও পর্যাপ্ত ছিল না। ঢাকা-বরিশাল রুটের সব লঞ্চেই ওপরে বিলাসবহুল ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু ইঞ্জিন রুমের নিরাপত্তার জন্য কিছুই থাকে না।
নিখোঁজ ৩৯ জনের তালিকা : সুগন্ধা
নদীতে বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এখানে নিখোঁজদের স্বজনরা তাদের নাম লিখিয়েছেন।
এর ভিত্তিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ৩৯ জনের নামের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৮, নারী ১৬ ও
শিশু
রয়েছে ১৫ জন।
নিখোঁজরা হলেন বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বড় লবণগোলা গ্রামের মো. হাকিম শরীফ (৪০), বরগুনার
বেতাগি উপজেলার ছোট মোকামিয়া গ্রামের আরিফুর রহমান (৪০), বেতাগি
উপজেলার মোকামিয়া গ্রামের আরিফুর রহমান (৩৫), বরগুনার
সদর উপজেলর খাজুরা গ্রামের মো. মঈন সরদার (৩০), নরসিংদী
জেলার রায়পুর উপজেলার হায়পারা গ্রামের মো. আব্দুল হক (৩০), বরগুনার
বেতাগি উপজেলার ছোট মোকামিয়া গ্রামের আরিফুর রহমান (৩২), বরগুনা
সদরের আরিফুর রহমান (৩২), বরগুনার
বামনা উপজেলার গোলাকাটা গ্রামের আব্দুল হামিদ খান (৭০)।
বরগুনা সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের মোসা. তাসলিমা (৩২), একই
এলাকার সুমাইয়া আক্তার মীম (১৪), সুমনা
আক্তার তামিমা (১২), বরগুনা
সদর উপজেলার দক্ষিণ বড় লবণগোলা গ্রামের পাখি (৩২), বরগুনার
বেতাগি উপজেলার বুড়ামজুমদার এলাকার রিনা বেগম (৩২),
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেতরা গ্রামের পপি আক্তার ফজিলা (৩৫), পটুয়াখালী
জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলি গ্রামের নুসরাত বেগম লিমা (১২), বরগুনার
তালতলী উপজেলার ছোটবগি গ্রামের রেখা বেগম (৪০), বরগুনা
জেলার বেতাগি উপজেলার গরিয়াবুনিয়া গ্রামের জাহানারা বেগম (৩৫), বরগুনা
সদর উপজেলার পরীরখাল গ্রামের রাজিয়া সুলতানা (৩৬), ঢাকার
সবুজবাগের উত্তর মাদারটেক এলাকার মনোয়ারা বেগম (৬০), একই
এলাকার রুনা আক্তার (২২), সারমিন
আক্তার (২৩), বরগুনা
সদর উপজেলার কুমারখালী গ্রামের রিমু আক্তার (২১), একই
উপজেলার কিসমত শ্রীনগর গ্রামের জাহানারা বেগম (৪২), বরগুনা
সদরের কুমারখালী গ্রামের রিমু আক্তার (১৭)।
ঢাকার ডেমরা থানার পূর্ব বক্সনগর এলাকার মো. জানায়েত ইসলাম বায়জিদ (৭), বরগুনার
তালতলী উপজেলার ছোটবগি এলাকার জুনায়েদ (৭), বরগুনা
সদর উপজেলার দক্ষিণ বড় লবণগোলা গ্রামের নাছিরুল্লা (১), ঢাকার
সবুজবাগ থানার উত্তর মাদারটেক এলাকার অহনা (৬), একই
এলাকার জীবন (১২), ইমন
(৮), আব্দুল্লাহ
(৪), আছিয়া
(২), বরগুনা
সদর উপজেলার পরিরখাল এলাকার নুসরাত (৯), বরগুনার
বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া গ্রামের কুসুম (৭), বরগুনা
সদরের কুমারখালী এলাকার মোদাচ্ছিন (১১), চাঁদপুর
সদর উপজেলার পাইকান্দা গ্রামের মাহিন (১২), বরগুনা
সদর উপজেলার কুলসুম (৪), বরগুনা
সদরের ধলুয়া গ্রামের মোদাচ্ছের (১১) ও বরগুনার বেতাগি উপজেলার ছোট মোকামিয়া গ্রামের মোসামৎ কুলসুম (৪)।
ঝালকাঠি সদর থানার এসআই গৌতম কুমার ঘোষ বলেন, নিখোঁজদের স্বজনের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এ তালিকা করেছি।
কোনো মরদেহ উদ্ধার নেই : ঝালকাঠির
সুগন্ধা নদীতে অগ্নিকাণ্ডের সময় বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান-১০ থেকে লাফিয়ে পড়ে নিখোঁজদের সন্ধানে গতকাল সকাল থেকে অভিযান চালিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা। তবে গতকাল বিকাল পর্যন্ত কোনো মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের স্বজনের দাবি, কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে সুগন্ধার তীরে অপেক্ষায় আছেন স্বজনরা। কেউ আবার ট্রলার নিয়ে নদীর বিভিন্ন প্রান্তে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রিয়জনকে।
ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, গতকাল সকাল থেকে ঝালকাঠি ও বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল এবং কোস্ট গার্ডের একটি টিম নিয়ে লঞ্চঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মৃতদেহ পাওয়া যায়নি।









