র্যাবের মধ্যস্থতায় সোনালী ব্যাংকের বান্দরবানের রুমা শাখার অপহৃত ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দীনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল স্থানীয় একটি বাজারের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানায় র্যাব সদর দপ্তর।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বণিক বার্তাকে জানান, সোনালী ব্যাংকের বান্দরবান রুমা শাখার ম্যানেজার নেজাম উদ্দীনকে অপহরণের পর থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় বাজার থেকে নেজাম উদ্দীনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানের নেতৃত্ব দেন র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম সাজ্জাদ হোসেন।
সেখানে হামলার সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও নিরাপত্তায় থাকা ১০ পুলিশ সদস্য ও চার আনসার সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। যাওয়ার সময় রুমা সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে বান্দরবানের উপজেলা পর্যায়ের ছয়টি শাখা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে বান্দরবান জেলা শহর শাখার কার্যক্রম চালু রয়েছে।
অপহরণের পর নেজাম উদ্দিনের স্ত্রী মাইছুরা ইসফাত জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার রাতে তার স্বামী অপহরণের পর তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারেননি। তবে বুধবার সকালে ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি কল পেয়েছেন। রিসিভ করার পর ওপাশ থেকে বলে, ‘আপনার হাসবেন্ড আমাদের কাছে আছে। কথা বলায় দেব?’ কথা বলতে চাইলে তারা আর কথা বলতে দেয়নি। পরে অনেকবার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সরকারের সঙ্গে কেএনএফের যখন শান্তি আলোচনা চলছে ঠিক সে সময়ে এসব ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এমন অবস্থায় কেএনএফের সঙ্গে আগামী ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনা বাতিল করে দিয়েছে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি।
২০২২ সালে কেএনএফের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছিল বাংলাদেশে। সংগঠনটি তাদের ফেসবুক পাতায় তখন দাবি করেছিল, তারা বাংলাদেশের কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন নয়। তাদের ভাষায়, সুবিধাবঞ্চিত কুকি-চিন জনগোষ্ঠীর জন্য স্বশাসিত বা পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতাসহ একটি ছোট রাজ্য চাইলেও তারা কোনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি। কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নাথান বমের নাম গণমাধ্যমে এসেছিল। তিনি ২০১২ সালে কুকি চিন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনস বা কেএনডিও নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যা পরে কেএনএফ-এ রূপান্তরিত হয়।










