অগ্নিনির্বাপণে যেসব আধুনিক সরঞ্জাম প্রয়োজন তার অধিকাংশই নেই গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে। ১৪ বছর আগে বগুড়ায় বাতিল হওয়া পুরনো গাড়ি দিয়েই চলছে আগুন নেভানোর কাজ। দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা অ্যাম্বুলেন্সটিও আধুনিক নয়। স্টেশনটিতে পাঁচটি গাড়ি থাকলেও পর্যাপ্ত চালক নেই। এছাড়া পুরনো ভবনেই বসবাস ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরনো গাড়িগুলো পরিবর্তন করে আধুনিক গাড়িসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চাওয়া হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। এছাড়া নতুন ভবন চেয়ে কর্তৃপক্ষকে কয়েক দফা চিঠি দিয়েও কোনো সমাধান হচ্ছে না। এ অবস্থায় অগ্নিনির্বাপণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিনিয়তই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

ফায়ার স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে ৮২ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনটি। যেকোনো দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা মোকাবেলায় স্টেশনটিতে ৪ হাজার ৩০০ লিটার পানি রাখার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি কলগাড়ি রয়েছে। এছাড়া কল পাম্প টানা গাড়িও রয়েছে একটি। ১ হাজার ৮০০ লিটার পানি ধারণক্ষমতার একটি ইমার্জেন্সি টেন্ডার গাড়ি, একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি টোয়িং ভেহিক্যাল রয়েছে। তবে এসব গাড়ির মধ্যে পানিবাহী কল গাড়িটি অনেক পুরনো। বগুড়ায় ২৫ বছর ব্যবহার করার পর ১৪ বছর আগে বাতিল হওয়া গাড়িটি ২০১০ সালে গাইবান্ধা স্টেশনে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সটিও অনেক পুরনো এবং আধুনিক নয়। অ্যাম্বুলেন্সটিতে জরুরি সেবায় নেই অক্সিজেনের ব্যবস্থা। স্টেশনটিতে পাঁচটি গাড়ি থাকলেও পর্যাপ্ত চালক নেই। এছাড়া একটি দ্বিতল ভবন ও একটি একতলা ভবনে ঝুঁকি নিয়েই বাস করছেন ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। সেখানেই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা নাসিম রেজা নীলু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কল গাড়িটি বগুড়ায় ২৫ বছর ব্যবহার করার পর ১৪ বছর আগে গাইবান্ধা স্টেশনে সংযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু গাড়িটি বর্তমানে ব্যবহারোপযোগী নয়। ইমার্জেন্সি টেন্ডার গাড়ি ছাড়া এ স্টেশনে কলগাড়িই হচ্ছে একমাত্র পানিবাহী যানবাহন।’

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালকের অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলার স্টেশনগুলোয় স্টাফ অফিসার, স্টেশন অফিসার, সাব অফিসার, টিম লিডার, ড্রাইভার, ফায়ার ফাইটার, উচ্চমান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার, অফিস সহায়ক, বাবুর্চি, সহকারী বাবুর্চি, পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ ১৭৯টি মঞ্জুরীকৃত পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১৭০ জন। বাকি নয়টি পদ শূন্য।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শূন্যপদগুলো পূরণ করাসহ সব সমস্যা তুলে ধরে আমরা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি। কিন্তু কয়েক দফায় চিঠি দিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না। এটা পর্যায়ক্রমে হবে।’