দেশে জ্বালানি ও পানির দাম সমন্বয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে
বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ নামের একটি সংগঠন। শনিবার (৮ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স
ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘ঢাকা ওয়াসার চলমান উন্নয়ন: পানি-জ্বালানির মূল্য সমন্বয়
ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, ওয়াসা
বছরে একাধিকবার পানির দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। অপচয়, জবাবদিহিতা না থাকা, মাঠ পর্যায়ে
দুর্নীতি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে
হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী মকবুল ইলাহী
চৌধুরী বলেন, তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের প্রিপেইড মিটার যুক্ত করার প্রকল্প পুরোপুরি
বাস্তবায়ন করছে না। প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্যাসের অপচয় রোধ করা সম্ভব। গ্যাসের
অপচয় রোধ সম্ভব হলে ১৫০ মিলিয়ন কিউবিক গ্যাস ডাকাতি রোধ করা যায়। যে গ্যাসের মাধ্যমে
এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব, যার দাম পড়ত প্রতি ইউনিট দুই টাকা।
ঢাকা ওয়াসার পানির মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পদ্মা ও মেঘনা
এবং একইসঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুড়িগঙ্গা এবং শীতলক্ষ্যার
পানি দূষণমুক্ত করে সরবরাহ সম্ভব হলে পানির উৎপাদন ব্যয় আরো কমে যেত।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম,
খুলনা ওয়াসা বছরে একাধিকবার পানির দাম বাড়িয়ে
যাচ্ছে। অপচয় ও জবাবদিহিতা না থাকা এবং মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির
কারণে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। মিঠা পানির দেশে এটা যে মূল্য সন্ত্রাস তা বলাই শ্রেয়।
জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি রয়েছে। গ্যাস,
বিদ্যুৎ ও পানির পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে খরচ কমে আসত। এক্ষেত্রে
সরকারের জবাবদিহিতা না থাকা এবং ভুল নীতি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। মূল্যবৃদ্ধির
যৌক্তিকতা কতটুকু তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ দিন। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে অযৌক্তিক
খরচের হিসাব, দুর্নীতি ও ভুল নীতি বেরিয়ে আসত যা জনগণ জানতে পারত।
ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক উত্তম কুমার রায় বলেন, ঢাকা
ওয়াসায় দুর্নীতি করার এখন খুব একটা সুযোগ নেই। আমরা মেসেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের তাদের
তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সমাধানের চেষ্টা করি। যদি আপনারা কোথাও দুর্নীতি হচ্ছে মনে করেন,
সঠিক তথ্য নিয়ে এলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা খাবার পানি
সরবরাহ করে থাকি। কিন্তু গ্রাহকের অসচেতনতা এবং সাপ্লাই পাইপলাইনে লিকেজ থাকায় গ্রাহক
খাবার পানি পাচ্ছে না বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি পাচ্ছে এ অভিযোগ অস্বীকার করার মতো নয়।
তবে আমাদের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ হলে আশা রাখি শতভাগ সুপেয় পানি গ্রাহককে উপহার
দিতে পারব।
এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী বদরুল আলম বলেন, আমরা দেশের অভ্যন্তরে ব্যাংক
থেকে কোন ঋণ সংগ্রহ করি না। বিদেশী ব্যাংকের অধীনে সুদের হার কম থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি
হওয়ায় আমরা তা দিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। শতভাগ জবাবদিহিতা ওয়াশা নিশ্চিত
করছে। গ্রাহকের অভিযোগ শুনতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও করছি
আমরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান ডলার সংকট,
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে পানি এবং বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে তা অবশ্যই
জবাবদিহিতার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। গণশুনানির ব্যবস্থা জ্বালানি ও পানির ক্ষেত্রে
পুনরায় চালু করতে হবে।
এ সময় আরো বক্তব্য দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক প্রকৌশলী বেলায়েত
হোসেন, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, জাতীয় স্বাধীনতা
পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু, ডাক্তার আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।










