চলতি অর্থবছরে ক্রমবর্ধমান খারাপ বাণিজ্য অবস্থান থেকে কিছুটা বিরাম পেয়েছে নেপাল। দেশটি কিছুটা হলেও বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে এ অর্থবছরে। দেশটিতে মধ্য জুলাইয়ে নতুন অর্থবছর শুরু হয়। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটি থেকে রফতানি হওয়া পণ্যের মধ্যে ভোজ্যতেলকে অগ্রাধিকার পেতে দেখা গেছে। এ সময়ে দেশটির মোট রফতানি আয়ের এক-তৃতীয়াংশ এসেছে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল রফতানি থেকে। খবর দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট ও মাই রিপাবলিকা।

নেপালের ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্টিং প্রমোটিং সেন্টার (টিইপিসি) পরিচালিত পরিসংখ্যান অনুসারে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির মোট রফতানি আয়ের একটি বড় অংশ মাত্র দুটি পণ্যের হাতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গত ১১ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময়ে নেপালের রফতানি বেড়েছে, তবে তা যৎসামান্য। এর তুলনায় পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলে দেশটির রফতানি আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত ১১ মাসে দেশটির মোট রফতানি আয় মাত্র দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৮০০ কোটি রুপিতে (স্থানীয় মুদ্রা) উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশে।

আলোচিত সময়ের মধ্যে পাম অয়েল রফতানি থেকে নেপালের আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩১ কোটি রুপি, এক বছরের আগের তুলনায় যা দ্বিগুণেরও বেশি। একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে সয়াবিন তেল রফতানি থেকে দেশটির আয় প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে ১ হাজার ১২ কোটি রুপির রেকর্ড ছুঁয়েছে।

পাম বা সয়াবিন কোনোটিই নেপালে উৎপাদিত কৃষিপণ্য নয়। দেশটিতে অল্পস্বল্প সয়াবিন উৎপাদন হলেও পাম একেবারেই উৎপাদন হয় না। মূলত দেশটি এ দুটি ভোজ্যতেলের কাঁচামাল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ক্রয় করে। এরপর তা পরিশোধন করে পুনরায় রফতানি করে। প্রধান রফতানি গন্তব্য ভারত। দেশটির আমদানির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১১ মাসে নেপাল মোট ১ হাজার ৭৫৫ কোটি রুপির অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি করেছে, এক বছর আগের তুলনায় যা ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬১৬ কোটি রুপিতে উন্নীত হয়েছে।

সম্প্রতি পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত। এ লক্ষ্যে ৩৯টি পাম অয়েল আমদানিকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করেছে দেশটি। অবৈধভাবে সস্তা পাম অয়েলে আমদানি রোধ করে দেশীয় শিল্প রক্ষার উদ্দেশ্যে ভারত এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। নেপালের পাম অয়েল রফতানি খাতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।