সম্ভাব্য শুল্ক বৃদ্ধির আশঙ্কায় ভারতে স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদা বেড়েছে। এতে দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটি বেচাকেনায় সংযোজিত মূল্য (প্রিমিয়াম) পৌঁছেছে এক দশকেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চে। এছাড়া বিনিয়োগ ও গহনার চাহিদা বাড়ায় চীনেও স্বর্ণের প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

ভারতে গত সপ্তাহে বুলিয়ন ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামের ওপর প্রতি আউন্স স্বর্ণে সর্বোচ্চ ১২১ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করেছেন, যা ২০১৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। আগের সপ্তাহে এ প্রিমিয়াম ছিল সর্বোচ্চ ১১২ ডলার। উল্লেখ্য, এতে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত আছে।

মুম্বাইভিত্তিক পাইকারি স্বর্ণ ব্যবসায়ী চেনাজি নারসিংহজির মালিক অশোক জৈন বলেন, ‘পরবর্তী বাজেটে স্বর্ণে শুল্ক বাড়াতে পারে ভারত সরকার। এমন প্রত্যাশায় রেকর্ড দাম সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীরা প্রিমিয়াম দিয়ে স্বর্ণ কিনছেন।’

একটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত মুম্বাইভিত্তিক এক বুলিয়ন ডিলার বলেন, ‘গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা গেছে। এছাড়া রুপির বিনিময় হারেও বড় ওঠানামা দেখা গেছে। এতে খুচরায় গহনার চাহিদা কিছুটা কম ছিল।’

ভারতের বাজারে গত বৃহস্পতিবার প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল রেকর্ড ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৯ রুপি। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) জানিয়েছে, গত বছর ভারতে স্বর্ণের চাহিদা ১১ শতাংশ কমেছে। এছাড়া চলতি বছরও চাহিদা হ্রাসের এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

চীনে গত সপ্তাহে বৈশ্বিক স্পট দামের তুলনায় আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৩২ ডলার প্রিমিয়ামে স্বর্ণ বেচাকেনা হয়েছে। আগের সপ্তাহে এ প্রিমিয়ামের হার ছিল আউন্সপ্রতি মাত্র ৮ ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধির পরও সাংহাই ও হংকংয়ে মূল্যবান ধাতুর ব্যবসায়ীদের কাছে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। কারণ অনেকেই ধারণা করছেন, দাম আরো বাড়তে পারে। এ বিষয়ে উইং ফাং প্রিসিশাস মেটালসের হেড অড ডিলিং পিটার ফাং বলেন, ‘দাম বাড়ায় অনেকেই নিজেদের গহনা বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে বাজারে নতুন সরবরাহ তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, চীনে চান্দ্র নববর্ষের আগে গহনার চাহিদা বেড়েছে। কারণ গহনা কেনা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রতিফলন।