গাড়ির জগতে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ অবস্থানে ছিল জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কম্বাশ্চন ইঞ্জিন। এখন সে আধিপত্য খর্ব করার দৌড়ে রয়েছে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি)। প্রায় বড় সব অটো ব্র্যান্ড এখন এ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। খাতসংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ বলছে, গাড়ির জগতে শিগগিরই তৃতীয় বিকল্প হতে যাচ্ছে শূন্য-কার্বন নিঃসরণের হাইড্রোজেনচালিত গাড়ি।
ভবিষ্যৎধর্মী এ উদ্যোগে এগিয়ে রয়েছে বুটিক স্টার্টআপ ফাস্ট অটো। সম্প্রতি কম্বাশ্চন ইঞ্জিনে হাইড্রোজেন জ্বালানি পোড়ানো সুপারকার বাজারের আনার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবির দ্য রিটজ-কার্লটনে উন্মোচিত হয়েছে ফাস্ট অটোর প্রথম সুপারকার ফাস্ট এফ৬১এইচ ভি১২।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাহনটি শুধু দৃষ্টিনন্দন নকশা ও পারফরম্যান্সের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং হাইড্রোজেনচালিত কম্বাশ্চন ইঞ্জিন প্রযুক্তির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে ফাস্ট অটো। উন্মোচন অনুষ্ঠানে কোম্পানিটি দেখাতে চেয়েছে, সুপারকারের ভবিষ্যতের জন্য এফ৬১এইচের বনেটের নিচে থাকা পাওয়ারট্রেন হতে যাচ্ছে কার্যকর, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প।
ফাস্ট অটোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা কেন ওকুয়ামা জানিয়েছেন, নতুন এ সুপারকারে ইতালীয় নকশা, জাপানি গ্রাহকবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রকৌশল দক্ষতার সমন্বয় ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘দেখতে হয়তো আরেকটি সুন্দর সুপারকারের মতোই লাগবে। কিন্তু ভেতরে রয়েছে একটি হাইড্রোজেনচালিত কম্বাশ্চন ইঞ্জিন।’
এফ৬১এইচের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রায় শূন্য কার্বন নিঃসরণ সক্ষমতা। ধোঁয়ার বদলে গাড়িটির এক্সহস্ট পাইপ দিয়ে বের হয় পানির বাষ্প। জ্বালানি দহন প্রক্রিয়ায় বাতাস ব্যবহারের কারণে খুব সামান্য নাইট্রোজেন অক্সাইড তৈরি হয়, তবে ক্ষতিকর দূষণ প্রায় নেই বললেই চলে। ফাস্ট অটোর দাবি, এ ইঞ্জিন প্রায় ৫০০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করে। যানবাহনগুলো প্রচলিত পাওয়ারট্রেনের সমান বা আরো ভালো পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম এবং সবুজ হাইড্রোজেন ব্যবহার করলে তা কার্যত শূন্য কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করে।
—খবর ও ছবি দ্য ন্যাশনাল









