তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়ছে। এতে সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটিতে পণ্যটির মজুদ রেকর্ড বেড়েছে। তবে এ সময়ে চাহিদা বাড়ায় দেশটিতে গ্যাসোলিনের মজুদ কমতির দিকে থাকতে দেখা গেছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।
ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বেড়ে ৫৪ কোটি ৭ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় যা ১৪ লাখ ব্যারেল বেশি। এর আগের দুই সপ্তাহেও দেশটিতে পণ্যটির মজুদ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে দেশটির উপসাগরীয় উপকূলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ জ্বালানি তেল পরিশোধন কেন্দ্র অবস্থিত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মজুদ বৃদ্ধির খবরে জ্বালানি তেলের বাজারে ফের ধস নেমেছে। সর্বশেষ কার্যদিবসে দেশটির বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম কমে ৪০ ডলার ৯৬ সেন্টে নেমেছে, আগের দিনের তুলনায় যা ১ ডলার ৬৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কম। একই দিনে প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) বেচাকেনা হয়েছে ৩৮ ডলার ৪৯ সেন্টে, আগের দিনের তুলনায় যা ১ ডলার ৮৮ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম।
তবে এ সময়ে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে গ্যাসোলিনের বাজারে। ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের মজুদ আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। যেখানে খাতসংশ্লিষ্টরা ধারণা করেছিল, জ্বালানিটির মজুদ সর্বোচ্চ ১৩ লাখ ব্যারেল কমতে পারে। পণ্যটির মজুদ হ্রাসের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে চাহিদা বৃদ্ধি। ১৯ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে আগের সপ্তাহের তুলনায় গ্যাসোলিনের চাহিদা ৯ শতাংশ বেড়েছে। যদিও গত চার সপ্তাহে দেশটির সম্মিলিত জ্বালানি চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমেছে।
শিকাগোর প্রাইস ফিউচারস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফিল ফ্লাইন বলেন, গত চার সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের চাহিদা বাড়ছে। আগের তুলনায় পণ্যটির বাজারের উন্নতি লক্ষণীয়ভাবে বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি দৈনিক গড়ে ৭ লাখ ৯৭ হাজার ব্যারেল কমেছে। বিশেষত সৌদি আরব থেকে পণ্যটির আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে দেশটি। একই সময়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ কূপগুলো থেকে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় যা দৈনিক গড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল বেশি।










