কানাডীয়দের ভোগ ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। অক্টোবরে দেশটির খুচরা বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে নভেম্বরে এটি নিম্নমুখী হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। ক্রমবর্ধমান সুদহারের কারণে বড়দিনের ছুটির মৌসুমেও দেশটির ভোগ ব্যয় ধীর হয়ে পড়েছে।
দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিসটিকস কানাডা জানিয়েছে, অক্টোবরে মাসভিত্তিক খুচরা বিক্রি বাড়ার হার পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও এ হার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে মাসভিত্তিক খুচরা বিক্রি দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল।
অক্টোবরে খুচরা বিক্রি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে গ্যাসোলিন স্টেশন এবং খাদ্য ও পানীয়ের মূল্যবৃদ্ধি। কারণ এ সময়ে পরিমাণের হিসাবে খুচরা বিক্রি সমতল ছিল। বিনিয়োগ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের একজন অর্থনীতিবিদ শেলি কৌশিক বলেন, অক্টোবরে কানাডীয়দের ভোগ ব্যয় দৃঢ় রয়ে গিয়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণে মূলত খুচরা বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে পেট্রোলের উচ্চ দাম ভোগ ব্যয় বাড়াতে বেশি ভূমিকা রেখেছে। তবে আগামীর ভোগ ব্যয়ের দিকে তাকালেও খুব বেশি আশার চিত্র দেখা যায় না। নভেম্বরে খুচরা বিক্রি পুনরায় সংকুচিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাছাড়া ভবিষ্যতেও দেশটির ভোগ ব্যয় দুর্বল থেকে যেতে পারে। কারণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ব্যয় অব্যাহত রাখতে ভোক্তারা হিমশিম খাচ্ছেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদের হার রেকর্ড গতিতে বাড়িয়ে চলেছে। গত নয় মাসে ব্যাংক অব কানাডা ৪০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। এ হার ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ। অক্টোবরে দেশটির মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশে। এ হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তিন গুণেরও বেশি।
মুদ্রানীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর টিফ ম্যাকলেম বলেন, সুদহার বৃদ্ধির বিষয়টি অনেক তথ্যের ওপর নির্ভর করে। এভাবে পূর্বাভাস দেয়া কঠিন। আমরা বিভিন্ন দিক বিবেচনায় সুদহার বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।
আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ডেসজার্ডিনস গ্রুপের প্রধান রয়েস মেন্ডেস একটি নোটে বলেন, সর্বশেষ খুচরা বিক্রির তথ্যটি ব্যাংক অব কানাডার সুদহার বৃদ্ধির পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুক্রবার অক্টোবরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি এবং ভোক্তা মূল্য সূচকের তথ্য প্রকাশ করা হবে। এসব তথ্য ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণে একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।










