বৈশ্বিক বিলাসবহুল ঘড়ির বাজারে চলতি বছর বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কভিড-পরবর্তী সময়ে পণ্যটির দাম দ্রুত বাড়ে, এরপর টানা তিন বছর পতন দেখা যায়। তবে বিলাসবহুল ঘড়ির বাজার এখন ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। একই সময় ঘড়িতে বিনিয়োগের ধরনও পাল্টে গেছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

ওয়াচগাইসডটকমের সিইও রবার্টিনো আলতিয়েরো বলেন, ‘ঘড়িকে শেয়ারের মতো সম্পদ হিসেবে নয় বরং বহনযোগ্য সম্পদ হিসেবে দেখুন। বিলাসবহুল ঘড়ি মূলত মূল্য সংরক্ষণের জন্য কার্যকর এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মূল্য বাড়ে। কিন্তু এটি দ্রুত ধনী হওয়ার মতো কোনো বিনিয়োগ নয়়।’

রবার্টিনো আলতিয়েরো বলেন, ‘আপনি যদি সত্যিকারের মুনাফা খোঁজেন, তবে আপনাকে অন্তত ১২০ বছর একটি ঘড়ি ধরে রাখতে হবে।’

বৈশ্বিক বিলাসবহুল ঘড়ি বাজার ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছে। পূর্বাভাস অনুসারে, গত বছর বাজারের আকার ৫ হাজার ৯৯৭ কোটি ডলার হওয়ার কথা। ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ সমন্বিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩২ সাল নাগাদ বাজারটির আকার হতে পারে ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি ডলার।

তবে সামগ্রিক এ আকার বাজারের প্রকৃত অবস্থানকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত করছে না বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। কারণ অঞ্চল ও ব্র্যান্ড-ভিত্তিক তফাত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঘড়ি সাধারণত প্রথাগত সম্পদের তুলনায় বেশি মুনাফাদায়ী নয়। তবে সঠিক ঘড়ি ও সঠিক দাম বাছাইয়ের আলাদা মূল্য রয়েছে।

বিশ্বে বিলাসবহুল ঘড়ি তৈরিতে বিখ্যাত সুইস কোম্পানিগুলো। দেশটি থেকে ২০২৪ সালে ৩ হাজার ২৬২ কোটি ডলারের ঘড়ি রফতানি হয়েছে। টানা তিন বছর ধারাবাহিক বৃদ্ধির পর ২০২৪ সালে রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময় চীনে বিক্রি কমেছে ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং হংকংয়ে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সুইস ঘড়ির জন্য সবচেয়ে গতিশীল বাজার হিসেবে রয়ে গেছে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা।

সংগ্রহের ধরনের পরিবর্তন প্রসঙ্গে রবার্টিনো আলতিয়েরো বলেন, ‘কভিডকালে মানুষ মনে করত স্টিলের যেকোনো ঘড়ির দাম বাড়বে। এখন ক্রেতারা বিরল, ফিচার ও পুনরায় বিক্রয়ের বিষয়গুলো বিবেচনা করে ঘড়ি বেছে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডগুলো দীর্ঘমেয়াদি মূল্য বৃদ্ধিতে টেকসই পছন্দ। যার মধ্যে রয়েছে রোলেক্স, পাটেক ফিলিপ ও অডেমার্স পিগুয়ে। এ ব্র্যান্ডগুলো সবসময় সেকেন্ডারি মার্কেটে ভালো পারফর্ম করবে।’

বিনিয়োগ হিসেবে রিয়েল এস্টেটের বাজারের সঙ্গে তুলনা করে আলতিয়েরো বলেন, ‘রিয়েল এস্টেটের সম্ভাব্য লাভের হার প্রায় ১০ শতাংশ। এতে সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি কর, বাড়ি দেখভাল ও আসবাবপত্রের খরচ রয়েছে। এসব নিয়মিত খরচ মুনাফা কমায়। সে তুলনায় কম রক্ষণাবেক্ষণ করে ঘড়িতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।’

বিলাসবহুল ঘড়ির বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিয়েছে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলো। রবার্টিনো আলতিয়েরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতারা তুলনামূলক কম ঘড়ি কিনে থাকেন, কিন্তু সেরা মডেলগুলো বেছে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রাখেন। আমি অনেক ব্যয়বহুল ঘড়ি ও রিচার্ড মিল ব্র্যান্ড ঘড়ি মধ্যপ্রাচ্যের গ্রাহকদের হাতে দেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘এখনকার সংগ্রাহকরা বৈশ্বিক মূল্যের প্রবণতায় প্রভাব ফেলছেন, তবে শান্তভাবে। তারা দ্রুত কিনে আবার বেশি দামে বিক্রি বা অনলাইনে পোস্ট করছেন না, যেমনটি আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখি। তারা কিনে ধরে রাখছেন, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদে মূল্য বৃদ্ধিকে সমর্থন করতে পারে।’