গোটা বিশ্বের মতো যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়েছে মূল্যস্ফীতির প্রভাব। এ পরিস্থিতিতে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি ও বোনাসের ঘোষণা দিয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোলস-রয়েস এবং লজিস্টিক কোম্পানি উইনক্যানটন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ঘোষণা অনুযায়ী, পশ্চিম সাসেক্সের গুডউডে অবস্থিত রোলস-রয়েসের গাড়ি তৈরির কারখানার ১ হাজার ২০০ কর্মীর বেতন বাড়ানো হচ্ছে ১০ শতাংশ হারে। সেই সঙ্গে তারা বোনাস হিসেবে পাবেন বাড়তি ২ হাজার পাউন্ড। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালে এ কারখানার কর্মীদের আয় বাড়ছে বাড়তি ১৮ শতাংশ।

এ বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনাইটের সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম বলেন, রোলস-রয়েস বেতন বৃদ্ধির যে ঘোষণা দিয়েছে তা যথাযথ। এতদিন কোম্পানিটির কর্মীরা তাদের যোগ্যতার চেয়ে কম মজুরি পেয়ে আসছিলেন, তাদের অবমূল্যায়িতও করা হচ্ছিল। এ পরিস্থিতি অবশ্যই বদলাতে হবে। দীর্ঘদিন থেকেই ইউনাইট রোলস-রয়েসের এ কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে আসছিল।

উল্লেখ্য, জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউর মালিকানাধীন রোলস-রয়েসের গুডউডের কারখানায় উৎপাদন হয় ফ্যানটম স্যালন ও কুলিনান এসইউভি মডেলের গাড়ি। এ দুটি গাড়ি নির্মাণে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে যেগুলো হাতে তৈরি করতে হয়।

অন্যদিকে ২০ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ছে উইনক্যানটন কোম্পানির ১৫০ কর্মীর। বৃদ্ধির হার নির্ভর করবে কর্মীর চলমান চুক্তির ওপর। মূলত যে কর্মীরা জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ভ্যালোরের জন্য অয়েল ট্যাংকার চালান, তাদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে।

কভিড মহামারীর পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারী যান চালানোর মতো দক্ষ চালকের অভাব দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে দাহ্য জ্বালানি বা বিস্ফোরক দ্রব্য পরিবহন করে এমন ভারী যান চালানোর মতো চালক পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ এসব গাড়ি চালানোতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দরকার, এ কাজে দক্ষ কর্মী খুঁজে পেতে সময়ও প্রয়োজন। এ অবস্থায় ইউনাইট ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ট্যাংক-লরি চালকদের বেতন বাড়িয়েছে উইনক্যানটন। এ বেতন বৃদ্ধিকে নিজেদের জয় হিসেবেই দেখছে শ্রমিক সংগঠনটি।

চলমান মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, বেকারত্বসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক ধর্মঘটের পক্ষে মত দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কর্মীরা। এক পরিসংখ্যান বলছে, কর্মী সংকট ও নানা ধর্মঘটের কারণে অক্টোবরে ৪ লাখ ১৭ হাজার কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে শ্রমিক ইউনিয়নের শঙ্কা। যেটি সত্যি হলে, এটি হবে ১০৮৯ সালের জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কর্মবিঘ্নিত মাস।