জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেছেন, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে টেনে ওঠানো যাচ্ছে না। এসএমইর জায়গা বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে নিচ্ছে। এ পরিস্থিতিকে কীভাবে সামাল দেয়া যায়, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা উচিত। 

গতকাল এনবিআরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এদিন অর্থনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা করে এনবিআর। আলোচনায় এনবিআরের কাস্টমস ও আয়কর নীতির সদস্য এবং প্রথম সচিব ও দ্বিতীয় সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। 

এনবিআর চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘যদিও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের যুক্তি হচ্ছে তাদের ইউনিট ব্যয় ও উৎপাদন ব্যয় কম হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ভালো ও রফতানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন করছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মতো এসএমই এত ভালো পণ্য উৎপাদন করতে পারবে না বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু অনেক দেশেই এসএমই ভালো পণ্য উৎপাদন করে টিকে আছে। এ খাত কেন এগোচ্ছে না, সেটা সমাধানে আমাদের আরো ভালো করে কাজ করতে হবে।’ 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পক্ষে বাজেট প্রস্তাব ‍তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ফেলো মুনতাসির কামাল ও সৈয়দ ইউসুফ সাদাত। বাজেট প্রস্তাবে তারা দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যক্তি আয়করের স্লাবে পরিবর্তন আনা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে করপোরেট কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা, নতুন আয়কর আইনে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে কোম্পানি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার ধারা সংশোধনের প্রস্তাব তুলে ধরেন। 

এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের পক্ষ থেকে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক স্নেহাশিষ বড়ুয়া। প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘কোম্পানিগুলো তাদের দখলে থাকা মার্কেট শেয়ার অনুযায়ী কর দিচ্ছে না। এজন্য এনবিআরের গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে, কেন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মার্কেট শেয়ার অনুযায়ী কর দিচ্ছে না।’

 এছাড়া এনবিআরের গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালী করা, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের অফিস ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় বর্ধিত করার প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন আয়কর আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ ও কার্যকরভাবে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ট্যাক্স রিটার্ন জমার পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।