চলতি বছরের জুনে চীনের ডিজেল রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি কমে প্রায় দুই বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। দেশটির সরকারি সূত্র সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের মহামারী রোধে দেশে দেশ লকডাউন আরোপ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি চাহিদায় ধস নেমেছে। মূলত এর জের ধরেই চীনের ডিজেল রফতানি কমেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশটি থেকে সব মিলিয়ে ১০ লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল রফতানি হয়েছে। এর আগে মাসে দেশটি রফতানি করেছিল ১৪ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল। এছাড়া ২০১৯ সালের জুনে চীন থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৭০ হাজার টন। অর্থাৎ এক মাস ও এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি কমেছে যথাক্রমে ৪ লাখ ১০ হাজার ও ১০ লাখ ৩০ হাজার টন। সে হিসাবে এক বছর আগের তুলনায় দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি কমেছে ৫০ শতাংশের বেশি, যা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন।
চীন বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ জ্বালানি তেল ভোক্তা দেশ। নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে লকডাউন ও সরকারি বিধিনিষেধের কড়াকড়িতে দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পরিশোধন কার্যক্রম একেবারে কমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মহামারী পরিস্থিতি অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে দেশটি। শিল্প খাতের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে জ্বালানি পণ্য সরবরাহে ঝুঁকেছে পরিশোধন কোম্পানিগুলো। চীন থেকে পণ্যটির রফতানি কমার পেছনে এটাও প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। তবে দক্ষিণ চীনে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবল বর্ষণ হয়েছে। এতে অঞ্চলটিতে বন্যার
সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশটির সামগ্রিক জ্বালানি পণ্য ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে।
এদিকে জুনে দেশটি থেকে জেট কেরোসিন রফতানি হয়েছে মোট ৭ লাখ ৭০ হাজার টন, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩৮ শতাংশ কম। তবে আগের মাসের তুলনায় পণ্যটির রফতানি বেড়েছে। মে মাসে দেশটি সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার টন জেট কেরোসিন রফতানি করেছিল। এছাড়া এ সময়ে চীন থেকে গ্যাসোলিন রফতানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফিরেছে। গত মে মাসে দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি কমে ১৪ মাসের সর্বনিম্নে ঠেকেছিল। জুনে এসে পণ্যটির রফতানি বেড়ে ৭ লাখ ৬০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে।
এছাড়া গত মাসে দেশটি থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রফতানিও বেড়েছে। মে মাসে চীন থেকে মোট ৫৭ লাখ ৯০ হাজার টন এলএনজি রফতানি হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৯ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।










