প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক দক্ষ জনশক্তিকে কেন্দ্র করে বড় অর্থনীতি ও কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) খাতের তিন কর্মীর মধ্যে একজনের বেশি গত এক বছরে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন। শুধু বাড়তি বেতন নয়, উন্নততর জীবনযাপনও প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের বিদেশমুখিতার বড় কারণ। খবর ইউরো নিউজ।
আন্তর্জাতিক নিয়োগ প্রতিষ্ঠান এসথ্রির সর্বশেষ ‘স্টেম ওয়ার্কফোর্স’ প্রতিবেদন অনুসারে, অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও বেসরকারি খাত স্টেম মেধার পেছনে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে।
জরিপটি ২০২৫ সালের জুলাই ও আগস্টে পরিচালিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ৫ হাজার ৩৯১ জন প্রাপ্তবয়স্ক স্টেম পেশাজীবী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ জানিয়েছেন, সর্বশেষ ১২ মাসে বিদেশী কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান চাকরির প্রস্তাব নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) ব্যয় ও আন্তর্জাতিক পেটেন্ট আবেদনের প্রায় অর্ধেকের হিস্যাধারী এ ছয় দেশ। দেশভেদে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার হার ভিন্ন। সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউএইতে, ৫৬ শতাংশ। বিপরীতে জাপানে এ হার মাত্র ৫ শতাংশ। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নেদারল্যান্ডসে ৪৪ শতাংশ, জার্মানিতে ৩৭ ও যুক্তরাজ্যে ৩১ শতাংশ স্টেম কর্মী বিদেশী প্রস্তাব পেয়েছেন। এসব তথ্য কর্মীদের অবস্থানের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে, নাগরিকত্বের ভিত্তিতে নয়।
বিদেশে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভালো জীবনযাত্রার মান ও বেশি বেতন। বিশ্বব্যাপী ৩২ শতাংশ কর্মী ভালো জীবনযাত্রার কথা বলেছেন, আর ৩১ শতাংশ উল্লেখ করেছেন আর্থিক সুবিধার কথা। যুক্তরাজ্যে এ অসন্তোষের হার বেশি স্পষ্ট। সেখানে ৪৪ শতাংশ কর্মী উন্নত জীবনমানের জন্য দেশ ছাড়তে আগ্রহী। পাশাপাশি কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
এসথ্রির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিমো লেনে বলেন, ‘সুরক্ষাবাদী বাণিজ্যনীতি ও শিল্পনীতির বিস্তারের ফলে প্রযুক্তি খাতে সরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে। এর ফলে বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে।’
জরিপে আরো দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক স্টেম কর্মী বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ১৯ শতাংশ কর্মী আগামী এক বছরের মধ্যে দেশ ছাড়তে চান বা এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এ হার ইউএইতে ৩৪ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৩০, জার্মানিতে ২২ ও যুক্তরাজ্যে ১৩ শতাংশ। যারা দেশান্তরে ইচ্ছুক তাদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ এরই মধ্যে নতুন চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতের অভিবাসন একমুখী নয়। আরব আমিরাত থেকে ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও উত্তর আমেরিকায় কর্মীরা যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের কর্মীরা ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছেন। জার্মানিতে গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক স্টেম কর্মী যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড ও কানাডায় পাড়ি জমিয়েছেন।
এসথ্রি বলছে, এ প্রবণতা একমুখী ‘ব্রেইন ড্রেইন’ নয়। বরং এটি বিশ্বজুড়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার দেয়া-নেয়ার একটা প্রক্রিয়া, যেখানে দেশগুলো ভালো বেতন, উন্নত কর্মপরিবেশ, জীবনমান ও ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।










