জাপানের কোর মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। তাজা খাবার বাদ দিয়ে হিসাব করা এ মূল্যস্ফীতি গত মাসে ৪১ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এ তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান ব্যয় পরিবারগুলোর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির এ প্রবণতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপরও মুদ্রানীতি কঠোর করার ক্ষেত্রে চাপ তৈরি করছে।
জাপানি সংবাদমাধ্যম মাইনিচির খবরে বলা হয়েছে, ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হারে পতন মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে সহায়তা করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক খুচরা বিক্রেতা আগামী বছর খাদ্যপণ্যের দাম আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তবে মূল্যস্ফীতির দৃষ্টিভঙ্গি এবং ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) মুদ্রানীতি সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে মন্দার ঝুঁকি এবং মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অন্ধকারে রয়ে গিয়েছে।
নরিনচুকিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকেশি মিনামি বলেন, ‘মুদ্রানীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের বাধা রয়েছে। কারণ আগামী বছরের প্রথমার্ধে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় পড়তে পারে। এ অবস্থায় বিওজের পক্ষে মুদ্রানীতি কঠোর করার পদক্ষেপ নেয়া কঠিন।’
গতকাল প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুসারে, জাপানের কোর ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) নভেম্বরে এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এ হার অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অক্টোবরে সিপিআই ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছিল। জাপানের কোর মূল্যস্ফীতির হিসাবে শুধু তাজা খাবারের মূল্যের ওঠানামা বাদ দেয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে জ্বালানির দাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত মাসের কোর মূল্যস্ফীতি ১৯৮১ সালের পর সর্বোচ্চ। সে সময় দেশটির কোর সিপিআই ৪ শতাংশ বেড়েছিল। ১৯৭৯ সালে জ্বালানি বাজারে উল্লম্ফন এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির প্রভাব মূল্যস্ফীতিকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
ইউটিলিটি বিল বাদে ভাজা মুরগি ও স্মার্টফোন থেকে শুরু করে এয়ার কন্ডিশনার পর্যন্ত প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। অনেক বিশ্লেষক আশা করেন, আগামী বছর কোর মূল্যস্ফীতি বিওজের লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের কাছাকাছি চলে আসবে। কারণ এ সময়ে মধ্যে জ্বালানির দাম স্থির এবং সরকারি ভর্তুকির কারণে বিদ্যুতের দামও কমে যাবে। যদিও এমনটা নাও ঘটতে পারে বলে মনে করেন কিছু বিশ্লেষক। কারণ ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা মূল্যস্ফীতিকে আরো বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাইকোকু ডাটা ব্যাংক একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এরই মধ্যে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী বছরের প্রথম চার মাসে ৭ হাজার ১৫২টি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। এ সংখ্যা চলতি বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আমরা সম্ভবত আগামী বছরও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখতে পাব। এমনকি এ প্রবণতা চলতি বছর থেকে আরো তীব্র হতে পারে।










