করোনা-পরবর্তী সময়ে কোনোভাবেই রাজস্ব আয় বাড়ছে না
ভোমরা স্থলবন্দরে। এ বন্দরটিতে চলতি
অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব ঘাটতি বেড়েই চলেছে। গত ১০ মাসে
প্রায় ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি পড়েছে। রাজস্ব ঘাটতির কারণ হিসেবে বাণিজ্য ভালো না হওয়ায় কথা
বলছেন বন্দরসংশ্লিষ্ট ও আমদানি-রফতানি
ব্যবসায়ী নেতারা।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখার তথ্যানুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১০ মাসে জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮৯৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৬৬ কোটি ১৫ লাখ, আগস্টে ৮৪ কোটি ৪১ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৯৬ কোটি ৬৯ লাখ, অক্টোবরে ১০০ কোটি ৮৮ লাখ, নভেম্বরে ৯৮ কোটি ৫৬ লাখ, ডিসেম্বরে ৮৪ কোটি ১২ লাখ, জানুয়ারিতে ১০৩ কোটি ৯৮ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৭৪ কোটি ৮২ লাখ, মার্চে ১০০ কোটি ৮৭ লাখ ও এপ্রিলে ৮৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
ওই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, গত ১০ মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৪৪ কোটি ৭৪ লাখ, আগস্টে ৫৫ কোটি ২ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৫৪ কোটি ৬০ লাখ, অক্টোবরে ৪০ কোটি ৯৫ লাখ, নভেম্বরে ৪২ কোটি ৮ লাখ, ডিসেম্বরে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ, জানুয়ারিতে ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৫৭ কোটি ৪৭ লাখ, মার্চে ৭৪ কোটি ১৬ লাখ ও এপ্রিলে ৫৬ কোটি ৬ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৩৮৫ কোটি টাকা ঘাটতি।
সূত্র জানায়, গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এ বন্দরে রাজস্ব আয় হয় ৬৪৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সে হিসেবেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ১৩৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব ঘাটতি।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজি নওশাদ দেলোয়ার রাজু বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের ধারণা ছিল করোনা সংকট কেটে গেলে বন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো যাবে। কিন্তু সেই ধারণাও ভুল হয়ে যাচ্ছে বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দা যাওয়ায়। তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই করোনা-পরবর্তী সময়ে ভোমরা বন্দরে আমদানি-রফতানি ভালো হলো না। তাছাড়া ভোমরা বন্দরে পণ্য আমদানিতে বৈষম্যের কারণেও ব্যবসা ভালো যায় না। ফলে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি বেড়েই চলেছে।
এ ব্যাপারে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের ডেপুটি সহকারী কমিশনার নেয়ামুল হাসান রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যেকোনো বন্দরে মূলত রাজস্ব বেশি-কম হয়ে থাকে পণ্য আমদানি-রফতানির ওপর নির্ভর করে। ভোমরা বন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দা যাচ্ছে অর্থবছরের প্রায় শুরু থেকে। যে কারণে রাজস্ব আয় কমে ঘাটতি বেড়েছে।’










