আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দামে অব্যাহত পতন বজায় রয়েছে। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) সর্বশেষ কার্যদিবসে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম কমে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ও এর জের ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক জরুরি অবস্থা জারির কারণে তামার বাজারে দরপতন বজায় রয়েছে। ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত না কমলে তামার দরপতনে লাগাম টানা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর মেটাল বুলেটিন।
এলএমইতে গত ৩১ ডিসেম্বর ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা ৬ হাজার ১৫৫ ডলার ৫০ সেন্টে বিক্রি হয়েছিল। নতুন বছরের প্রথম কার্যদিবসে ব্যবহারিক ধাতুটি টনপ্রতি ৬ হাজার ১৬৫ ডলারে বিক্রি হয়। এর পর তামার দাম ক্রমাগত বাড়তে শুরু করে।
বাড়তে বাড়তে ১৫ জানুয়ারি ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামার দাম ৬ হাজার ২৩১ ডলারে উঠে যায়। পরের দিন ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা ৬ হাজার ৩০০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। গত এক মাসের মধ্যে এটাই এলএমইতে প্রতি টন তামার সর্বোচ্চ দাম।
তবে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে চীনজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে তামার দাম কমতে শুরু করে। ২০ জানুয়ারি ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামার দাম কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ২৪৪ ডলারে। ২৪ জানুয়ারি ব্যবহারিক ধাতুটির দাম টনপ্রতি ৫ হাজার ৯৬৫ ডলারে নেমে আসে। ২৮ জানুয়ারি ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামার দাম আরো কমে ৫ হাজার ৭১৪ ডলারে দাঁড়ায়।
৩০ জানুয়ারি এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা ৫ হাজার ৬২০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। আর সর্বশেষ কার্যদিবসে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম আরো কমে টনপ্রতি ৫ হাজার ৫৬৯ ডলারে নেমে এসেছে। দিনের শুরুতে প্রতি টন তামা ৫ হাজার ৫৩৩ ডলার ৫০ সেন্টে বিক্রি হয়েছিল। গত পাঁচ মাসের মধ্যে এটাই তামার সর্বনিম্ন দাম।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আইএনজি ব্যাংকের পণ্যবাজারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ওয়েনউ ইয়াও বলেন, চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তামার চাহিদা কমানো আশঙ্কা তৈরি করেছে। এর জের ধরে কমতে শুরু করেছে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম। ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত না কমলে এ আশঙ্কা আরো জোরদার হতে পারে। ফলে সহসাই কমবে না তামার দাম।








